
সিলেটে এক প্রবাসীকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সময় আন্তঃজেলা অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৮ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে নগরীর হাওয়াপাড়া ও তাঁতিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধারসহ দেশীয় অস্ত্র ও লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ও মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে নগরীর তাঁতিপাড়া পয়েন্ট থেকে সুহেল সরকার (২২) নামে এক যুবককে ১৪-১৫ জন দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক অপহরণ করে। সুহেল সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মাহতাবপুর গ্রামের মৃত খোকা সরকারের ছেলে এবং বর্তমানে জালালাবাদ থানার গোয়াবাড়ী এলাকায় বসবাস করেন।
অপহরণের পর তাকে তাঁতিপাড়ার ‘নাজমা নিবাস’ নামক একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়। সেখানে চাকু ও কাঁচি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি লোহার রড ও স্টিক দিয়ে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। চক্রটি সুহেলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এমনকি তার বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ছাড়া পেয়ে সুহেল সরকার দ্রুত কোতোয়ালি মডেল থানায় বিষয়টি জানান। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের নির্দেশে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে নামেন। অভিযানে ‘নাজমা নিবাস’ থেকে সুহেলের শনাক্তমতে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
অভিযানকালে পুলিশ ওই চক্রের হেফাজতে থাকা জাহিদ আহমদ নামে আরও এক প্রবাসীকে উদ্ধার করে। জাহিদ গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা ইউনিয়নের হাজী বাহার উদ্দিনের ছেলে। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে ২টি মোবাইল সেট, নগদ টাকা, কাঁচি, চাকু ও লোহার রুল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এই অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় চক্রের মূলহোতা হুমায়ুন আহমেদ জনি নামের এক ব্যক্তি। তিনি ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয়ে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আটকরা হলেন, নগরীর গোটাটিকরের বাসিন্দা সেলিম আহমদের ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), নগরীর উপশহরের বাসিন্দা মোক্তাদিরের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), নগরীর হাওয়াপাড়ার বাসিন্দা ফয়জুল করিমের ছেলে জুবাইন আহমদ (১৯), শিবগঞ্জ লামাপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মন্নানের ছেলে সুফিয়ান আহমদ (১৯), নগরীর চৌকিদেখীর বাসিন্দা আনোয়ার মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (১৯), নগরীর কাজীটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মারজান (১৯), নগরীর হাউজিংস্টেট এলাকার বাসিন্দা সুজন মিয়ার ছেলে মোসাদ্দেক আলী (১৮), নগরীর হাওয়াপাড়ার বাসিন্দা রুমান আহমদের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), নগরীর মজুমদারপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রতনের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) ও হাওয়াপাড়ার বাসিন্দা মানিক মিয়ার ছেলে মিজান আহমদ (১৮)।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ও মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, প্রবাসীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কালে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় চক্রের ১০ সদস্যকে চাকুসহ আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য করুন