অনলাইন ডেস্ক
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৮:০২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনা ও কামালের মামলায় রাজসাক্ষী মামুনের জেরা চলছে

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের জেরা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তার জেরা শুরু হয়।

চৌধুরী মামুনকে জেরা করছেন শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি শেষে তাকে আংশিক জেরা করেন তিনি। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর স্টেট ডিফেন্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাকি জেরার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

এর আগে, গত ২ সেপ্টেম্বর জবানবন্দিতে রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশেই জুলাই-আগস্ট গণহত্যা হয়েছে।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, গত বছরের (২০২৪) ১৮ জুলাই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ফোনকলের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে পুলিশ প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল উইপেন) ব্যবহার শুরু করে।

সাবেক আইজিপি জানান, সে সময় তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ছিলেন এবং তার সঙ্গে অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার উপস্থিত ছিলেন। নির্দেশনার বিষয়টি জানানোর পর প্রলয় কুমার ডিএমপি কমিশনারসহ সারা দেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেন। এরপর থেকেই আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার শুরু হয়।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাশ্রয়ী হওয়ার কথা বললেন ডা. রফিক

জবানবন্দিতে মামুন আরও বলেন, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, ফজলে নূর তাপস, সালমান এফ রহমান, ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, মির্জা আযম, হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্ররোচিত করেছিলেন।

এদিন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ট্রাইব্যুনাল-১-এর সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে গণহত্যার শিকার প্রত্যেক পরিবার, আহত ব্যক্তিবর্গ, দেশবাসী ও ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান তিনি সাবেক এই আইজিপি।

গত ১০ জুলাই চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ট্রাইব্যুনালে নিজের দায় স্বীকার করে এই মামলায় স্বপ্রণোদিতভাবে রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং একই সঙ্গে সব দায় স্বীকার করেন। এ মামলায় গত ৩ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত তিনিসহ ৩৬ সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষীদের বক্তব্যে গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বীভৎস চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা এসব ঘটনার জন্য শেখ হাসিনা, কামালসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে ফ্যাসিবাদমুক্ত: সংসদে রাষ্ট্রপতি

ওয়াকআউট’ কী? রাজনৈতিক কেন দলগুলো তা করে?

মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

সংসদের সৌন্দর্য হলো, স্বৈরাচারের মানুষের পক্ষের কেও এখানে নেই: আন্দালিব রহমান পার্থ

মানুষের কাছে গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে জীবিত থাকবেন খালেদা জিয়া

চোটে জর্জরিত বায়ার্ন

জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি জুলাই সনদ ভঙ্গ করে : সারজিস

বিরোধী দলের প্রতিবাদ প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে-ওয়াক আউট

আহমেদ আযম খান মন্ত্রী হলেন

বিপিসির ডিপো ছুটির দিনেও খোলা রাখার নির্দেশ

১০

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল

১১

এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে দেশের মানুষ : প্রধানমন্ত্রী

১২

সংসদ যেন কারো চরিত্রহননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়: জামায়াত আমির

১৩

ফেলানির ও হাদি, আবরার নাম সংসদের শোক প্রস্তাবে উত্থাপন নাহিদের

১৪

শোকপ্রস্তাব আনা হলো যাদের নামে সংসদে

১৫

মির্জা আব্বাসসহ প্যানেল ৫ সদস্যের স্পিকার মনোনীত

১৬

দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

১৭

।হাসনাতের পর এবার খেজুরের হিসাব দিলেন এমপি আখতার

১৮

দেশে আবার গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী

১৯

তিনটি দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে এনসিপির বিক্ষোভ

২০