
দীর্ঘ ১৯ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালীন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে ভোট শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হয়।
ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, শুরুতে পরিবেশ সুন্দর থাকলেও ভোটাররা আসা শুরু করলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গেটের সামনে ভিড় করে ভোটারদের ম্যানিপুলেট করছেন।
তাঁরা নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করছেন এবং প্যানেল পরিচিতি বই জোর করে বিলি করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ইংরেজি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিভাগে শিবিরের প্রার্থীরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের মারতে আসা হয়েছে।
রিযাজুল ইসলাম নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানান এবং ভোট গণনার সময় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।এদিকে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের জিএস প্রার্থী এ কে এম রাকিব নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতার’ অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন ভোটকেন্দ্রে শুধু একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন নম্বর দেখে ভোট নেওয়া হচ্ছে। ওই বিশেষ প্যানেলের টোকেন না থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা ভিন্ন আচরণ করছেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন সবাইকে সমান সুযোগ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট একটি প্যানেলকে সুবিধা দিচ্ছে।
প্রার্থীদের তাৎক্ষণিক অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে লিখিত অভিযোগ ছাড়া তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন বলে জানানো হলে প্রার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ক্যাম্পাসের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও প্রক্টরিয়াল বডি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আজকের নির্বাচনে ছাত্রদলের ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান শিবিরের অদম্য জবিয়ান ঐক্য ছাত্রশক্তির ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান এবং বামপন্থি মওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও কেন্দ্রগুলোর সামনে ব্যাপক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
মন্তব্য করুন