সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৬টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। ফলে এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইফতেখার আহমদ ভূইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়, পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলার মোট ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৬টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রায় ৬২ শতাংশ বিদ্যালয় চলছে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। বিপরীতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৫০টি বিদ্যালয়ে। এ পরিস্থিতিতে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। এতে তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে পাঠদানের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাঠদান তদারকি, শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে স্থায়ী নেতৃত্বের অভাব জটিলতা তৈরি করতে পারে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, একজন প্রধান শিক্ষক শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেন না; তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই দীর্ঘদিন ধরে এ পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ, সংকটের কারণ চিহ্নিতকরণ এবং তা নিরসনে সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইফতেখার আহমদ ভূইয়া জানান, ২০০৭ সালে শিক্ষকদের পদোন্নতির পর থেকে প্রায় ১৮ বছর ধরে আর কোনো শিক্ষক পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শিক্ষকদের পদোন্নতি স্থগিত রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও শক্তিশালী করা জরুরি। তাই গোয়াইনঘাটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।