ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
Protidinkhabor.com

টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শি/শুকে যৌ/ন নি/র্যাত/নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ


আবির হোসেন রাব্বি
আবির হোসেন রাব্বি
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শি/শুকে যৌ/ন নি/র্যাত/নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘শিশুটি গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে। একই দিন শিক্ষককে শিশুটির বাবার করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর এবং মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ নিয়ে শিশুটির পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে পুলিশ তদন্ত করতে মাদ্রাসায় যায়। পরে সেখান থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এ ছাড়া ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে প্রাথমিকভাবে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। এতে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা (শিশুকে নিপীড়ন করা হয়েছে) পাওয়া গেছে। এখনও তদন্ত চলমান আছে।’

গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়।

২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটের অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগ এনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

তবে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনও ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শিশুটির বাবা। এ সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ ছাড়া নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন ওই বাবা।

মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার মাদ্রাসার ভেতরে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেন তিনি। এই হুমকির মুখে শিশুটি মারাত্মক আতঙ্কে পড়ে যায় এবং টানা তিন দিন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া শারীরিক হেনস্থার কথা বাবা-মায়ের কাছে প্রকাশ করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

বিষয় : মারধর মামলা যৌন নির্যাতন

Protidinkhabor.com

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শি/শুকে যৌ/ন নি/র্যাত/নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘শিশুটি গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে। একই দিন শিক্ষককে শিশুটির বাবার করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর এবং মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ নিয়ে শিশুটির পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে পুলিশ তদন্ত করতে মাদ্রাসায় যায়। পরে সেখান থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এ ছাড়া ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে প্রাথমিকভাবে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। এতে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা (শিশুকে নিপীড়ন করা হয়েছে) পাওয়া গেছে। এখনও তদন্ত চলমান আছে।’

গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়।

২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটের অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগ এনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

তবে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনও ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শিশুটির বাবা। এ সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ ছাড়া নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন ওই বাবা।

মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার মাদ্রাসার ভেতরে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেন তিনি। এই হুমকির মুখে শিশুটি মারাত্মক আতঙ্কে পড়ে যায় এবং টানা তিন দিন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া শারীরিক হেনস্থার কথা বাবা-মায়ের কাছে প্রকাশ করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।


Protidinkhabor.com

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আলী আজগর হাওলাদার
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আলী আজগর হাওলাদার