ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
Protidinkhabor.com

সীমান্তর ওপার দিয়ে টাকা আসা ঠেকাতে পারেন না কেন—সরকারকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের


আবির হোসেন রাব্বি
আবির হোসেন রাব্বি
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সীমান্তর ওপার দিয়ে টাকা আসা ঠেকাতে পারেন না কেন—সরকারকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
ফাইল ছবি

সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে—সরকারের এমন অভিযোগের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই।’

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে জামায়াত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি! একজনের গায়ে কোনো কাপড়ই নেই, আরেকজনের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় আছে। তো যার গায়ে কাপড় নেই, সে বলছে, ওই দেখো—ওর গায়ে কোনো জামা নেই।’

বিএনপি নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ‘ভোট ভিক্ষা’ চেয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তাঁর (শেখ হাসিনার) দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি।’ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘জনগণকে কার্ড দেবেন, দিচ্ছেন, দিন। এর আগে গরিব-ধনী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন একটার পর একটা। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ।’

শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রবাসে অস্থিরতার কারণে আমাদের প্রবাসীরা দেশে ফিরে আসছেন, তাদের নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। চাঁদাবাজির জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ। এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে।’

সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি, দখলদারি বন্ধ করতে পারেননি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার ভাঙচুর লুটপাটের অপরাধে এমপিকে শুধু পদত্যাগ করিয়েছেন। কেন? আপনাদের আইন নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নেই? যিনি অপরাধ করলেন, তার পদত্যাগের মাধ্যমেই সব শেষ হয়ে যাবে? তাকে আইনের আওতায় আনেননি কেন।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকার দেশ চলতে পারে না, ‘পাহাড়সম ব্যর্থতা’ চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে, সাত মাসের সরকার কিছু ভুলত্রুটি করেছে। কিন্তু আপনারা এত তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামলেন কেন? ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এত তাড়াতাড়ি অগ্রাহ্য করলেন কেন? সমাজের সব জায়গা এত তাড়াতাড়ি দখলে নিলেন কেন? দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক বানিয়ে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিলেন কেন?’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে। প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।’

বিষয় : বিএনপি জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগ সরকার ডা. শফিকুর রহমান সীমান্ত

Protidinkhabor.com

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


সীমান্তর ওপার দিয়ে টাকা আসা ঠেকাতে পারেন না কেন—সরকারকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে—সরকারের এমন অভিযোগের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই।’

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে জামায়াত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি! একজনের গায়ে কোনো কাপড়ই নেই, আরেকজনের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় আছে। তো যার গায়ে কাপড় নেই, সে বলছে, ওই দেখো—ওর গায়ে কোনো জামা নেই।’

বিএনপি নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ‘ভোট ভিক্ষা’ চেয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তাঁর (শেখ হাসিনার) দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি।’ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘জনগণকে কার্ড দেবেন, দিচ্ছেন, দিন। এর আগে গরিব-ধনী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন একটার পর একটা। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ।’

শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রবাসে অস্থিরতার কারণে আমাদের প্রবাসীরা দেশে ফিরে আসছেন, তাদের নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। চাঁদাবাজির জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ। এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে।’

সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি, দখলদারি বন্ধ করতে পারেননি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার ভাঙচুর লুটপাটের অপরাধে এমপিকে শুধু পদত্যাগ করিয়েছেন। কেন? আপনাদের আইন নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নেই? যিনি অপরাধ করলেন, তার পদত্যাগের মাধ্যমেই সব শেষ হয়ে যাবে? তাকে আইনের আওতায় আনেননি কেন।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকার দেশ চলতে পারে না, ‘পাহাড়সম ব্যর্থতা’ চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে, সাত মাসের সরকার কিছু ভুলত্রুটি করেছে। কিন্তু আপনারা এত তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামলেন কেন? ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এত তাড়াতাড়ি অগ্রাহ্য করলেন কেন? সমাজের সব জায়গা এত তাড়াতাড়ি দখলে নিলেন কেন? দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক বানিয়ে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিলেন কেন?’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে। প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।’


Protidinkhabor.com

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আলী আজগর হাওলাদার
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আলী আজগর হাওলাদার