ইশ! যদি একটু সুযোগ পেতাম—হ্যারি কেইন হয়তো এখন এটাই ভাবছেন। লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিপক্ষেও কেইনের খেলার সুযোগ হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও মেসি-রোনালদোর প্রতিপক্ষ হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কেইন। কিন্তু তাঁরা (রোনালদো-মেসি) যে-ই টুর্নামেন্টে খেলেন, সেই টুর্নামেন্টে কখনো খেলার সুযোগ মেলেনি ইংলিশ অধিনায়কের। ১৫-২০ বছর আগে লা লিগার এল ক্লাসিকো দেখতে উন্মুখ হয়ে থাকতেন দর্শকেরা। বার্সেলোনায় খেলতেন মেসি আর রোনালদোর দল ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এল-ক্লাসিকো তো বটেই, এমনকি দুই তারকা ফুটবলারের লড়াইও জমে উঠত। একে অন্যের রেকর্ড ভাঙায় ব্যস্ত থাকতেন রোনালদো-মেসি। লা লিগার সেই পুরোনো ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে কেইন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই স্পেনের জাতীয় দল আমাকে মুগ্ধ করত। ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি মেসি, রোনালদোসহ তারকাদের নিয়ে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের খেলাও আমাকে আকৃষ্ট করত। স্প্যানিশ ফুটবল সব সময়ই উচ্চমানের।’ সময়ের পরিক্রমায় রোনালদো এখন খেলছেন আল নাসরে। মেসির দল এখন ইন্টার মায়ামি। যদি মেসি-রোনালদোর সঙ্গে স্পেনের লিগে খেলতে পারতেন—এখনো সেই আক্ষেপ কাজ করে কেইনের। ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘সত্যি বলতে, স্পেনে খেলার সুযোগ কখনোই হয়নি। অতীতে সুযোগ পেলে অবশ্যই আমার ভালো লাগত। তবে প্রত্যেকের ক্যারিয়ারই ভিন্ন পথে এগোয়। বায়ার্ন মিউনিখে আমার পথচলা বেশ সফল হয়েছে। এখানে আমি খুবই খুশি।' বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে ২০২৭ সালের পরও চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছেন এই ফরোয়ার্ড। নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতিতে সাবেক কোচ হোসে মরিনিওর অবদানের কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে থাকা মরিনিওর সঙ্গে অতীতে হওয়া এক কথোপকথনের প্রসঙ্গও তুলে আনেন কেইন। ইংলিশ অধিনায়কের মতে ক্যারিয়ারের একটি পর্যায়ে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, আরও উচ্চতায় পৌঁছানোর সামর্থ্য তাঁর রয়েছে। বায়ার্নের শিরোপা জয়ের ম্যাচগুলো দেখে ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে নিজেকে আরও উন্নত করার সম্ভাবনা উপলব্ধি করেছিলেন। মরিনিওর সঙ্গে সেই আলোচনা তাঁর খেলায় পরিবর্তন আনতেও সাহায্য করেছে বলে উল্লেখ করেন কেইন। বায়ার্নের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৬০ ম্যাচে ১৫৬ গোল করেছেন কেইন। বুন্দেসলিগা, ডিএফবি পোকাল, জার্মান সুপার কাপ জিতেছেন। তবে বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে তো দূরে থাক, কখনো চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেননি তিনি। এমনকি ইংল্যান্ডের হয়েও কখনো কোনো শিরোপা জিততে পারেননি। বারবার শিরোপার কাছাকাছি গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। একের পর এক শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও জিততে না পারা কেইন গত ২৬ অক্টোবর লন্ডনের উৎসবমুখর রাতে প্রথমবারের মতো জেতেন ব্যালন ডি’অর। ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘দলীয় ট্রফি এই খেলায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালন ডি’অর জেতা আমার জীবনের অন্যতম সেরা অনুভূতি ছিল। বিশেষ একটি রাত কাটিয়েছি। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হবে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। আমি দুটিই জিততে চাই।’
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।