ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
Protidinkhabor.com

দফায় দফায় গ্যাস-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে মানবাধিকার পরিষদের ক্ষোভ

দফায় দফায় গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই ক্ষোভ জানায় সংস্থাটি। জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ এস এম মোস্তফা কামাল ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মধ্যে দফায় দফায় গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। মাত্র দুই মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মোট ৪৭৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি জনসাধারণের ওপর এক অসহনীয় অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, গ্যাস ও জ্বালানি কোনো বিলাসদ্রব্য নয়। এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবন, রান্নাবান্না, যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অপরিহার্য উপাদান। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পরিবহন ব্যয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়ে। শেষ পর্যন্ত এর সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হয় নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষদের। জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থের পরিপন্থী। জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা। অটো গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা, যৌক্তিকতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন ভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যাতে অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায় সে জন্য কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ মূল্য সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া জ্বালানি খাতের অনিয়ম, অপচয়, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করে জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দফায় দফায় গ্যাস-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে মানবাধিকার পরিষদের ক্ষোভ