দেশে উগ্রবাদী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলেন। শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি দেশে ফিরতে চাইলে সরকার বাধা দেবে না। বরং তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যাকে চাই, তিনি যদি নিজেই আসেন, তাহলে তো ভালো। তাকে আর ধরে-বেঁধে আনতে হবে না। তিনি আসলে বিচারের মুখোমুখি হবেন।’ শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। ফলে অনুমানের ভিত্তিতে আলোচনা না করাই ভালো। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা একবার ডিসেম্বরের কথা বলছেন। পরে হয়তো জুনের কথা বলবেন। এভাবে ছয় মাস পরপর একই আলোচনা চলতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনও ঘোষণা বা বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া বিষয়টি নিয়ে কথা বলা অর্থহীন। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পরের পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের তুলনা টেনে তিনি বলেন, এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালাননি। তিনি দেশে থেকে বিচার ও কারাবাসের মুখোমুখি হয়েছেন এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে অংশও নিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তার বিচার হবে। তার বিরুদ্ধে কোনও বেআইনি আচরণ করা হবে না। ‘তিনি ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন। আমরা ন্যায়বিচার দিয়েই তার অন্যায়ের জবাব দিতে চাই’, বলেন তথ্য উপদেষ্টা। ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, অবস্থান বদলায়নি সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন এবং সেখানে তার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে সরকারের আগের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। গত ১৯ অক্টোবর ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। এ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বিদেশে অবস্থান করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আগেও আপত্তি জানিয়েছে। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকার এই অবস্থান থেকে সরে আসেনি, সরে আসবে না। আমরা এটাকে এভাবে বলব না যে বাংলাদেশ বিষয়গুলো মেনে নিচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আলোচনা চলাকালেও বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনাকে ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা নিয়েও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট ছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন। তাই রাজনৈতিকভাবে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করতে চান না তিনি।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।