তুরাগ নদী থেকে বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এবার তার সেই বন্ধু ও ছোটভাই রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দ্বীপের ডাকেই বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন তাহসিফ। সে কারণেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বীপকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ। তিনি শুক্রবার সকালে জানান, ‘গত রাতে তাকে সেখানে নেওয়া হয়। দুজন একসঙ্গে ছিলেন বলে তারা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে রেজা দ্বীপের দেওয়া কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’ এই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই দ্বীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়েছে। তাহসিফ সাউরীর ভাসমান মরদেহ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তারা বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বীপের ফোন কলেই তাহসিফ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটা বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন। বিমান বাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ মোবাইল ও মানিব্যাগ পেলেও বাইকটির সন্ধান পায়নি। তাহসীফকে ডেকে নেওয়া বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই দ্বীপের সঙ্গে পরিবারের তরফে কথা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানান এক স্বজন। তার ভাষ্য, দ্বীপ তাদের বলেছেন, তারা একসঙ্গে রাতে খাওয়াদাওয়া করেছেন। পরে তাহসিফকে তার বাসার এলাকাতেই রেখে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন দ্বীপ। গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।