ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
Protidinkhabor.com

৮ দিনের ব্যবধানে আবারও লোকালয়ে বাঘ, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক

সুন্দরবন ছেড়ে আবারও লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে একটি বাঘ। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পূর্ব সোনাতলা গ্রামে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করতে বন বিভাগের কর্মীরা ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তবে সোমবার দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও বাঘটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সুন্দরবনসংলগ্ন পূর্ব সোনাতলা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে, ধানখেত ও মাছের ঘেরের পাড়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বনরক্ষী, বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করা ভিটিআরটি এবং কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। বন বিভাগের ধারণা, ভোলা নদী সাঁতরে সুন্দরবন থেকে বাঘটি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। বাঘটি দিনের বেলায় কোনো ঝোপঝাড় কিংবা ধানখেতে লুকিয়ে থাকতে পারে। এ কারণে শরণখোলা, পানিরঘাট, সোনাতলা, মডেল বাজার ও পূর্ব সোনাতলা গ্রামের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে মাইকিং করা হয়েছে। বিশেষ করে রাতে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন বিভাগের সিপিজি টিম লিডার মো. খলিল জোমাদ্দার জানান, রোববার সন্ধ্যায় পূর্ব সোনাতলা গ্রামের সরোয়ার হাওলাদারের বাড়ির সামনে, আবু রাজ্জাক আকনের মাছের ঘেরের পাড়সহ বিভিন্ন ধানখেতে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগ, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের জানানো হয়। খবর পেয়ে সোমবার ভোরে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বনরক্ষী ও সংশ্লিষ্ট দলের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। বাঘের চলাচলের চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা দেখতে পান, বাঘটি ধানখেতের দিকে গেছে। সেখানেও বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া যায়। পরে ড্রোন উড়িয়ে দিনভর তল্লাশি চালানো হলেও বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নদীর চরে বাঘটির সুন্দরবনে ফিরে যাওয়ার কোনো চিহ্নও পাওয়া যায়নি। সিপিজির সহকারী টিম লিডার মো. সাচ্চু আকন জানান, গ্রামের ধানখেত ও সবজিখেতের আইলে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাঘের ভয়ে গ্রামের মানুষের চলাচলও কমে গেছে। সোমবার সকাল থেকে আশপাশের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়েছে। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ভিটিআরটি সদস্যদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পায়ের ছাপ দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বাঘটি ভোলা নদী সাঁতরে সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে এসেছে। বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে সুন্দরবনে ফিরিয়ে নিতে ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সোমবার রাতেও বাঘটি বনে ফিরে যাওয়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া না গেলে মঙ্গলবার আবারও ড্রোন উড়িয়ে অনুসন্ধান চালানো হবে। তিনি আরও জানান, বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মাত্র আট দিন আগে, গত ১৮ অক্টোবর রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন পানিরঘাট ও সোনাতলা এলাকায় একটি বাঘের বিচরণের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। পরে বাঘটি সুন্দরবনে ফিরে যায় বলে ধারণা করা হয়। তবে এবার লোকালয়ে আসা বাঘটির ফিরে যাওয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

৮ দিনের ব্যবধানে আবারও লোকালয়ে বাঘ, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক