
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, আধুনিক এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে এমন দেশ গঠনে কাজ করছে জামায়াত। দেশ-বিদেশে জামায়াত বিরোধী নানা প্রপাগাণ্ডা রুখতে যুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দিনব্যাপী পলিসি সামিটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় সামিটে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আগামীর রুপরেখা তুলে ধরেন তিনি।
মো. তাহের বলেন, মূল বিষয়টি হলো সুশাসন। আমরা সবাই জানি যে সুশাসনের জন্য আমাদের ভালো মানুষের প্রয়োজন এবং আমাদের দেশে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি। তাই সুশাসনের জন্য আমাদের অবশ্যই এমন একটি সমাজ এবং এমন কিছু ব্যক্তি প্রয়োজন যারা দুর্নীতিমুক্ত হবে। জামায়াতে ইসলামীর অগ্রাধিকার এবং আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়ে তুলব।
তিনি আরও বলেন,
দ্বিতীয়ত সুশাসনের জন্য আমাদের দক্ষ ও যোগ্য জনবল প্রয়োজন এবং আমাদের দরকার আন্তরিক, দেশপ্রেমিক, সৎ এবং নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। জামায়াতের লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যা এই ধরনের ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব তৈরি করবে। আর পুনরায় সুশাসনের জন্য আমাদের একটি অত্যন্ত ভালো ব্যবস্থা প্রয়োজন যা সমতা নিশ্চিত করবে এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের—নারী ও পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ বা সকল পেশার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে।
নায়েবে আমির বলেন, সুশাসন ও সুন্দর সমাজের জন্য সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন প্রয়োজন। সমাজ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করার জন্য আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সহযোগিতা এবং নৈতিকতা-ভিত্তিক পরোপকারী ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা হবে। সুতরাং, যদি আমরা এগুলো অর্জন করতে পারি তবে ইনশাআল্লাহ আমরা একটি ভালো সরকার, ভালো সমাজ, ভালো মানুষ এবং একটি ভালো দেশ পাব; আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।
গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের স্বার্থে আগামী নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। উন্নত বাংলাদেশের জন্য সকল অংশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ এবং সহযোগী হবার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের স্বার্থে আগামী নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে।
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দিনব্যাপী পলিসি সামিটের অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ।
মন্তব্য করুন