
গাজায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে মোতায়েনের বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের আগ্রহ প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে একটি ‘সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ওপর চলমান গণহত্যার মূল পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গঠিত কোনো বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কখনোই শান্তির মিশন হতে পারে না। এই উদ্যোগ মূলত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে নিরস্ত্র করার এবং দখলদার জায়নবাদী সত্তাকে শক্তিশালী করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ওয়াশিংটনে গিয়ে এ ধরনের আলোচনা করাকে তারা মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকারের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সেনাবাহিনী নিপীড়নের হাতিয়ার নয় বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আমাদের নিজেদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় গঠিত এবং তারা কোনো সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের ভাড়াটে সৈনিক নয়। ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদ করার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় ইউনিফর্মকে বাফার হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলেও তারা হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছেন:
১. গাজায় কথিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশগ্রহণের যেকোনো আগ্রহ অবিলম্বে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. ওয়াশিংটনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক এবং বিদেশি ঔপনিবেশিক স্বার্থের সঙ্গে তার সমঝোতার বিষয়ে জনসম্মুখে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
৩. পশ্চিমা ঔপনিবেশিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে এবং দখলদারদের সহযোগী হিসেবে গণ্য করে এমন যেকোনো পক্ষকে বর্জন করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহীদের রক্ত এবং সামরিক বাহিনীর সম্মানকে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে বিলিয়ে দিতে দেবেন না। তাদের সাফ কথা– ‘দখলকৃত ভূমিতে কোনো বাংলাদেশি বুট নয়; আমরা সংহতি চাই, অংশীদারিত্ব নয়’।
মন্তব্য করুন