
ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে পুলিশে দিলেন নবনির্বাচিত এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক
সামরুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি:
দলীয় শৃঙ্খলা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিলেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নিজ দলের ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে সরাসরি পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনায় জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে চাঁদপুর সদরের একটি এলাকায় কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খল আচরণ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি দ্রুত জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসে। অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে যাচাইয়ের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তার নির্দেশে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ঢালীর নেতৃত্বে অভিযুক্ত পাঁচজনকে চাঁদপুর সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। দলীয় পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশে জেলহাজত:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে আটক পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এমপির কঠোর বার্তা:
ঘটনা প্রসঙ্গে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন—
“অপরাধী যেই হোক তার ছাড় নেই। সে যদি আমাদের দলেরও হয়, তাহলে আমি আরও বেশি কঠোর হবো। আইন নিজের গতিতেই চলবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড কখনো বরদাস্ত করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলীয় নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া:
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে সাহসী ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দলীয় পরিচয়ের আড়ালে অনিয়ম-অপরাধ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত—এই বার্তাই দিয়েছেন এমপি।
অন্যদিকে কিছু নেতাকর্মী মনে করছেন, বিষয়টি দলীয়ভাবে সমাধানের সুযোগ ছিল। তবে সামগ্রিকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
আইন সবার জন্য সমান:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও নিজ দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া একটি শক্ত বার্তা বহন করে। এতে একদিকে যেমন দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে।
চাঁদপুর-৩ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম বড় ধরনের সাংগঠনিক পদক্ষেপ। ঘটনাটি এখনো জেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে স্থানীয় রাজনৈতিক
মন্তব্য করুন