
গভীর রাতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ছিনতাইকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
সামরুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি
গভীর রাত নামলেই আতঙ্কে ঢেকে যেত সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা। দিনের কোলাহল স্তব্ধ হলে অন্ধকারের আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠত একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র। পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা থাকতেন চরম অনিশ্চয়তায়। ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই, মাদক লেনদেন এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে এলাকাজুড়ে তারা তৈরি করেছিল নীরব আতঙ্কের পরিবেশ। ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।
এমন পরিস্থিতিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাভার আর্মি ক্যাম্প থেকে পরিচালিত একটি নিয়মিত টহল দল সাভার বাসস্ট্যান্ড সড়ক এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে।
সেনাসদস্যরা দেখতে পান, একদল ব্যক্তি কয়েকজন পথচারীকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি অনুধাবন করে তারা দ্রুত কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন এবং মুহূর্তেই শুরু হয় ধাওয়া। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশিতে উদ্ধার হয় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
ব্যাপক তল্লাশি, আরও দুইজন গ্রেপ্তার:
প্রাথমিক আটকের পর আশপাশ এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়ে পরিচালিত অভিযানে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করত।
বিপুল মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার:
আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, মদ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের স্বস্তি:
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চক্রটি সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল। গভীর রাতে চলাচল করা মানুষজন প্রায়ই ছিনতাই ও হেনস্তার শিকার হতেন। সেনাবাহিনীর দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। অনেকেই এ অভিযানের জন্য সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আইনানুগ ব্যবস্থা:
অভিযান শেষে আটককৃত চারজন ও উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাভার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন