অনলাইন ডেস্ক
৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:২৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামে ৭ বছরের শিশুর নামে অপহরণের মামলা নিল পুলিশ, তিন দিনেও মেলেনি মুক্তি

চট্টগ্রাম নগরে চার বছরের এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগে সাত বছরের আরেক ছেলে শিশুর নামে মামলা নিল পুলিশ এবং পরে ওই শিশুকে আইনের সংস্পর্শে নেয়। পাঠানো হয় আদালতে। আদালত গত শুক্রবার শিশুটিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠিয়ে দেন। তিন দিন ধরে শিশুটি সেখানে রয়েছে। অথচ শিশু আইন অনুযায়ী, ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু আসামি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতপাড়া ও নগর পুলিশে আলোচনা চলছে।

ঘটনার শুরু চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল। চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় বসবাসরত আনোয়ারা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান অসুস্থ হলে সেদিন চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সঙ্গে নিয়ে যান চার বছরের ছোট সন্তান মো. রামিমকেও। কিন্তু রামিম সেখান থেকে হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও রামিমকে না পেয়ে ঘটনার সাত মাস পর শুক্রবার পাঁচলাইশ থানায় অপহরণ মামলা করেন তার মা আনোয়ারা বেগম।

মামলায় আসামি করা হয় আইনের সংস্পর্শে নেওয়া ৭ বছরের শিশুটি ও তার ৩০ বছর বয়সী মাকে। এতে বলা হয়, বাদী জানতে পারেন তাঁর ছেলেকে হাসপাতালের বারান্দা থেকে সাত বছরের ওই শিশু ও তার মা খেলার কথা বলে অপহরণ করে নিয়ে যান। মামলা হওয়ার পর ওই দিনই পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক ষোলশহর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশু ও তার মাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর চার বছরের শিশুর এখনো খোঁজ পাননি। সাত বছরের শিশু কীভাবে অপহরণ কর‍ল জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, একজনের কাছ থেকে জানতে পারেন শিশুটি ও তার মা অপহরণে জড়িত।

জানতে চাইলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৭ চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিউল মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, শিশু আইন ও দণ্ডবিধিতে ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া, গ্রেপ্তার কিংবা আটকের সুযোগ নেই।

শিশুটির জন্মনিবন্ধন সনদ আছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে আদালতের আদেশের নথি, মামলা এজাহারে বাদী শিশুটির বয়স সাত উল্লেখ করেছেন। শিশুটির বাবারও দাবি, ছেলেটি বয়স সাত।

আইনে না থাকলেও কেন সাত বছরের শিশুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা গ্রহণ ও আইনের সংস্পর্শে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অমিতাভ দত্ত আজ রোববার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘নেওয়ার সুযোগ নেই।’ তারপরও এ রকম কেন হয়েছে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

আরও পড়ুন  অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের এসএমজি দিয়ে ব্রাশফায়ারের নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

সাত বছরের শিশু ও তার মাকে শুক্রবারই আদালতে নেওয়া হয়। তার মাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

অন্যদিকে কোনো শিশু আসামি হলে তাকে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হয়। কিন্তু চলতি ডিসেম্বরের শুরু থেকে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের নিম্ন আদালতেও চলছে মাসব্যাপী অবকাশ। ফলে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই সময় এ–সংক্রান্ত মামলা চলবে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। তবে শুক্রবার শিশুটিকে আদালতে নেওয়া হলেও এজলাসে হাজির করা হয়নি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, আদালতে শিশুটিকে আনা হলেও এজলাসে হাজির করা হয়নি। বিচারকের সই করা অন্তর্বর্তীকালীন পরোয়ানায় টঙ্গীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মফিজুল হক ভূঁইয়া আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আজ আদালতে শিশুটির জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, আজ বিকেলে দেওয়া এক আদেশে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম উল্লেখ করেন, শিশু আইন ২০১৩–এর ৪৪ (১) ধারা মতে, ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গ্রেপ্তার ও আটকের সুযোগ নেই। পাঁচলাইশ থানার মামলায় সাত বছরের শিশুটি বর্তমানে গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। তাকে তার বাবার জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হোক।

শিশুটির বাবা চা–দোকানে চাকরি করেন। মামলার বাদী ও তাঁরা প্রতিবেশী। জানতে চাইলে শিশুটির বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাত মাস আগের ঘটনায় আমার স্ত্রী ও সাত বছরের শিশুকে কেন আসামি করেছে, বুঝতেছি না।’ তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাঁর ছেলেকে আসামি করেছে।

জানতে চাইলে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা যাচাই–বাছাই করছি। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভুলে হয়তো মামলা নিল, কিন্তু আইনের সংস্পর্শে নিয়ে আদালতে কীভাবে পাঠাল। ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনা পুলিশ বারবার করবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে এপ্রিল-মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে আরও ৬০ দিনের ছাড় দিলো যুক্তরাষ্ট্র

জামালপুরে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

জাতীয় সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

রাজধানীর গুলশানে সিসাবারে অভিযান, সেবন সামগ্রী জব্দ

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী বিএনপির শহিদ পরিবারের সদস্য ছাত্রদলের শারমিন সুলতানা রুমা

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

১০

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

১১

বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

১২

কুষ্টিয়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, দরবারে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

১৩

জুন-জুলাইয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, শীর্ষ পদপ্রত্যাশী দুই ডজন নেতা

১৪

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

১৫

হাম টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ শুরু, ৪ সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা পাবে ১২ লাখের বেশি শিশু

১৬

জামায়াতকে’ পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস

১৭

এটা শাহবাগ নয়, এটা পার্লামেন্ট- হাসনাতকে স্পিকার

১৮

অভিযুক্তের সঙ্গে দলের কোন সম্পর্ক নেই, আইনের আওতায় আনার আশ্বাস

১৯

টাঙ্গাইলে মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেফতার ৬

২০