অনলাইন ডেস্ক
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৪:৫২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

‘গণতন্ত্র-মানবাধিকারে নজর কম ট্রাম্পের, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাণিজ্যকেন্দ্রিক’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় ছিল বলে অনেকে মনে করেন। তবে এমন ধারণাকে স্রেফ ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের গতিপথ বদলে গেছে। জো বাইডেন প্রশাসনের মত মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার ব্যবসা বাণিজ্য বলে মনে করেন কুগেলম্যান।

যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় সব বিদেশি সাহায্য স্থগিত করেছেন। ইউএসএইড ভেঙে দিয়েছেন। তিনি ‘নেশন বিল্ডিং’ পছন্দ করেন না। তাই বাইডেন প্রশাসনের দেয়া প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের সঙ্গে খাপ খাবে না।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সংখ্যালঘু অধিকারের মতো বিষয়গুলো এখনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে কুগেলম্যান বলেন, এগুলো ইতিহাস হয়ে গেছে। ট্রাম্প কেবল স্বার্থনির্ভর নীতি মানেন। মানবাধিকার বা গণতন্ত্র তার অগ্রাধিকার নয়। তিনি লেনদেনভিত্তিক ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, আসলে ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে বাংলাদেশ খুব একটা নেই। সেটা হয়তো ভালোও হতে পারে। কারণ নজরে থাকা দেশ যেমন ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থার উত্থান নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আশংকা প্রসঙ্গে মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, গত এক বছরে ধর্মভিত্তিক ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বেশি রাজনৈতিক পরিসর পেয়েছে। যদি তারা গণতন্ত্রবিরোধী বা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ায় তখনই সমস্যা হবে। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। বাংলাদেশ অতীতে এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।

আরও পড়ুন  ‘জাতীয় পতাকা’ প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটিকে গুরুত্ব সহকারে নজরদারি করতে হবে। প্রতিশোধমূলক রাজনীতি ও চরম মেরুকরণ বাংলাদেশে বড় ঝুঁকি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি রয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি। তবে নির্বাচনের সময় সহিংসতার আশঙ্কা থেকেই যায়।

অপরদিকে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দেন তিনি। বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা পাহাড়সম। তাছাড়া, এই সরকারের সময় মানুষের অস্থিরতা বাড়লেও আগের চেয়ে জনগণের স্বাধীনতা বেড়েছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে এই দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ বলেন, নির্বাচন যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় নতুন অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক কাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু তা এখনো অনেক বাকি। তাই নতুন সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ ও প্রত্যাশা থাকবে।

সবশেষে নতুন শুল্কনীতির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কিনতে বাংলাদেশের ওপর চাপ বেড়েছে বলেও জানান মাইকেল কুগেলম্যান।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে এপ্রিল-মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে আরও ৬০ দিনের ছাড় দিলো যুক্তরাষ্ট্র

জামালপুরে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

জাতীয় সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

রাজধানীর গুলশানে সিসাবারে অভিযান, সেবন সামগ্রী জব্দ

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী বিএনপির শহিদ পরিবারের সদস্য ছাত্রদলের শারমিন সুলতানা রুমা

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

১০

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

১১

বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

১২

কুষ্টিয়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, দরবারে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

১৩

জুন-জুলাইয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, শীর্ষ পদপ্রত্যাশী দুই ডজন নেতা

১৪

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

১৫

হাম টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ শুরু, ৪ সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা পাবে ১২ লাখের বেশি শিশু

১৬

জামায়াতকে’ পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস

১৭

এটা শাহবাগ নয়, এটা পার্লামেন্ট- হাসনাতকে স্পিকার

১৮

অভিযুক্তের সঙ্গে দলের কোন সম্পর্ক নেই, আইনের আওতায় আনার আশ্বাস

১৯

টাঙ্গাইলে মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেফতার ৬

২০