অনলাইন ডেস্ক
১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৪:১৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ভারতে গোবর-গোমূত্র থেকে ক্যান্সার গবেষণা, ব্যপক নয়ছয়

ভারতের মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরে পঞ্চগব্য ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যানসার নিরাময়ের একটি সরকারি গবেষণা প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।

২০১১ সালে জাবালপুরের নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে গরুর গোবর, গোমূত্র এবং দুধজাতীয় সামগ্রীর মিশ্রণ বা ‘পঞ্চগব্য’ দিয়ে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির চিকিৎসার উপায় খোঁজার কথা ছিল।

তবে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গবেষণার নামে সেখানে বিপুল অর্থ অপচয় এবং বিধি বহির্ভূত কেনাকাটা করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো প্রকল্পটি এখন উচ্চপর্যায়ের নজরদারিতে রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয়ের একাধিক ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গোবর, গোমূত্র, মাটির পাত্র এবং মেশিনারিজ কেনার নামে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে, যার বাজারমূল্য বড়জোর ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা হতে পারে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া গবেষণার অজুহাতে গোয়া ও বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন শহরে অন্তত ২৩ থেকে ২৪ বার বিমান ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অনুমোদিত বাজেটের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তদন্তকারীরা এই সফরগুলোকে ‘গবেষণার ছদ্মবেশে ভ্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঘুবার মারাভির নেতৃত্বে পরিচালিত এই তদন্তে আরও দেখা গেছে, মূল বাজেটে উল্লেখ না থাকলেও এই প্রকল্পের অর্থ দিয়ে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি গাড়ি কেনা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শ্রমিকের মজুরি হিসেবে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সৈকতে ভেসে এল শত বছরের পুরোনো নকশার কয়েক শ জুতা

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব খরচের সিংহভাগই গবেষণার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন ছিল। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এক দশকের বেশি সময় পার হলেও ক্যানসার চিকিৎসায় এই গবেষণা কোনো সুনির্দিষ্ট ফল বা নিরাময় পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার ড. এস এস তোমার দাবি করেছেন যে, গাড়ি বা মেশিনপত্রসহ সকল ক্রয়প্রক্রিয়া উন্মুক্ত টেন্ডার এবং সরকারি নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তার মতে, প্রকল্পের অডিট নিয়মিত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটিকে সব নথিপত্র সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রকল্পের আওতায় এখনো যুবক ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে এবং এখানে কোনো ধরনের ‘স্ক্যাম’ বা জালিয়াতি হয়নি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি এখন জাবালপুরের কালেক্টরের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার পর প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আপাতত এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা—উভয় দিক নিয়েই বড় ধরণের প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে রইল।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হামিমসহ ঢাবির দুই হল ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি

যে শাস্তি পেলেন দেরি করে অফিসে আসা সেই ৩ ভূমি কর্মকর্তা

লক্ষ্মীপুরে সাহাব উদ্দিন নামে এক কৃষকদল নেতা করলো চুরি

বন্ধ থাকা সরকারি পাটকলগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ : প্রতিমন্ত্রী

সালিশে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল নেতা বহিষ্কার

কূটনীতিক ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ইফতার করবেন প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তান সিরিজে ফিরছেন সাকিব, কী বলছে বাস্তবতা

এবার ইরানিদের পানিতে মারতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

যেভাবে রাশিয়ার ‘ভাড়াটে সেনা’ হয়ে লড়ছেন বাংলাদেশি যুবকরা

স্বামীকে হত্যা করে পালালেন টিকটকার আঁখি

১০

পেছাল ‘টক্সিক’ মুক্তির তারিখ

১১

প্লেব্যাক নিয়ে শ্রেয়ার কড়া বার্তা

১২

ঢাকার যেসব এলাকা আজ ভয়াবহ দূষিত

১৩

ঈদে আসছে জোভান-নীহার ‘গুডলাক’

১৪

ন্যাড়াবাহিনীর প্রধান নিহত

১৫

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল

১৬

ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

১৭

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

১৮

তরুণ-তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

১৯

পুরোনো রাজনীতির বিপরীতে তরুণদের শক্ত চ্যালেঞ্জ

২০