
খুলনায় হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক কাউন্সিলর শেখ খালিদ ও ইশতিয়াক ইস্তি আসামি।
খুলনা প্রতিনিধি………….
খুলনায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় সাবেক ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ খালিদ ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইশতিয়াক ইস্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নগরজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়, অতীতের নানা অভিযোগ এবং একাধিক মামলায় সংশ্লিষ্টতার প্রেক্ষাপটে তাদের নাম আবারও জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। সর্বশেষ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারে তাদের অভিযুক্ত করা হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, খুলনা মহানগরীর বাসিন্দা রাজীব গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে একটি ফোনকল পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। তিনি তার স্ত্রী ফারহানাকে জানান, পরিচিত কয়েকজন তাকে ডাকছে। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পরিবার সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। কয়েক দিন পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে, মামুর আস্তানার ৬ নম্বর পল্টন ঘাট এলাকায় ভৈরব নদীতে একটি মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল -এর মর্গে পাঠায়। সেখানে রাজীবের স্ত্রী ফারহানা ও তার প্রথম স্ত্রী (তালাকপ্রাপ্ত) লিয়া মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে দাফন সম্পন্ন হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ৩ জানুয়ারি রাত থেকে ৯ জানুয়ারি দুপুরের মধ্যে কোনো এক সময়ে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে রাজীবকে হত্যা করে এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ভৈরব নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলেও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে শেখ খালিদ ও ইশতিয়াক ইস্তির নাম।
শেখ খালিদ খুলনার খালিশপুর থানা এলাকার সাবেক ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে পরিচিত। তিনি স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর খালিশপুর থানা শাখার যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৫ জুলাই নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও জানা যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এবং মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রভাব ধরে রাখতেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একইভাবে ইশতিয়াক ইস্তিও দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার নামেও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে দমনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। অতীতেও বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এসেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ খালিদ ও ইশতিয়াক ইস্তির নাম সরাসরি এজাহারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নগর রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও পূর্বের মামলাগুলোর প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
মন্তব্য করুন