
ঘরে তখনো উৎসবের আমেজ। উঠানে সাজ সাজ রব। মেয়ের গায়ে হলুদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্বজনরা। কিন্তু সেই আনন্দমুখর বাড়িতেই নেমে এলো আকস্মিক শোকের ছায়া। প্রতিদিনের মতো সকালে গরুর দুধ দোয়াতে গোয়ালঘরে ঢুকেছিলেন দীপিকা সানা (৩৫)। সেখানেই তারের লিকেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিভে গেলো তার জীবনপ্রদীপ।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি গ্রামে।
স্থানীয় সমাজকর্মী কৃষ্ণ ব্যানার্জী জানান, ঘুঘুমারি গ্রামের কৃষক দেবাশীষ সানার স্ত্রী দীপিকা সানা মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে গরুর দুধ আহরণের জন্য গোয়ালঘরে যান। সেখানে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের লিকেজের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীপিকা-দেবাশীষ দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান অর্পিতা সানার (১৮) বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বাড়িতে চলছিল শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। নিজ হাতে ঘরদোর গোছানো, আত্মীয়স্বজনদের দেখভাল, সবকিছুতেই ছিলেন দীপিকা। মেয়ের নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তিনি। কিন্তু নির্মম নিয়তির এক ঝটকায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল গভীর শোকে। যে বাড়িতে হওয়ার কথা ছিল উলুধ্বনি ও হাসির রোল, সেখানে এখন কান্নার আহাজারি।
খাজরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। এমন একটি আনন্দের মুহূর্তে দীপিকার মৃত্যু পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পরিবারটির প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।
দীপিকা-দেবাশীষ দম্পতির তিন সন্তান, অভীক সানা (১৯), অর্পিতা সানা (১৮) ও অর্ণব সানা (৯)। সন্তানদের লেখাপড়া ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই দিনরাত পরিশ্রম করতেন দম্পতি। গ্রামের মানুষ জানান, সংসারের প্রতিটি খুঁটিনাটি নিজ হাতে সামলে সন্তানদের মানুষ করাই ছিল দীপিকার জীবনের প্রধান লক্ষ্য। সবার কাছে তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও স্নেহময়ী মা।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ খান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
মন্তব্য করুন