
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ার অভিযোগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে, পরিবারকে বিদায় জানানোর জন্য সেই তরুণ এরফান সোলতানিকে সময় দেয়া হয়েছিল মাত্র ১০ মিনিট। নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। যদিও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে (মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ইরানওয়্যারের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সি এরফান সোলতানিকে গত ৮ জানুয়ারি একটি বিক্ষোভ চলাকালে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তার স্বজনদের জানান, ফাঁসির আগে এটিই হবে তাদের শেষ সাক্ষাৎ। এ জন্য এরফানকে তার পরিবারের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়।
ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) নামের একটি এনজিওর তথ্য অনুযায়ী, আটক বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এরফন সোলতানিকেই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে, তাকে কোনো আইনজীবীর সহায়তা বা বিচার প্রক্রিয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ইরানওয়্যারকে সোলতানির পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ‘একজন নিকটাত্মীয় (এরফানের), যিনি নিজেও একজন আইনজীবী, মামলাটি নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী তাকে বাধা দেয় এবং হুমকি দেয়।’
সূত্রটি আরও জানায়, ‘নিরাপত্তা বাহিনী বলেছে যে, পর্যালোচনার মতো কোনো নথি নেই। বিক্ষোভে গ্রেফতার হওয়া সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।’
স্থানীয় ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, মামলাটি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে বা গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সোলতানির পরিবারকেও গ্রেফেতারের হুমকি দেয়া হয়েছে।
দ্য ইউএস সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরফান সোলতানির বিরুদ্ধে ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’র অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।
তবে ইরানজুড়ে যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সোলতানির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ সংক্রান্ত পূর্ণ বিবরণ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, পোশাক শিল্পে কর্মরত ২৬ বছর বয়সি সোলতানি গত বৃহস্পতিবার কারাজ শহরের রাস্তায় নামা হাজারো বিক্ষোভকারীর একজন ছিলেন। তারা দেশের নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থার সমাধানে ব্যর্থতার অভিযোগে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের ৩১টি প্রদেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে তেহরান কঠোর অভিযান চালিয়েছে এবং এতে নিহতের সংখ্যা ৫০০ থেকে ২ হাজারের মধ্যে হতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকবে। এটি ছিল ইরান সরকারের বিরুদ্ধে তার সবশেষ হুঁশিয়ারি।
মন্তব্য করুন