ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
Protidinkhabor.com

এবার বিএনপি নেতার নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান, কয়েকজনকে মারধর


আবির হোসেন রাব্বি
আবির হোসেন রাব্বি
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

এবার বিএনপি নেতার নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান, কয়েকজনকে মারধর
নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে ছিটকে পড়ার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। আমানতগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে মারধর করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে টিবি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল মাঠে তার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এরপর অভিযানের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

মাদক নির্মূলের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কি কোনও রাজনৈতিক দলের নেতার আছে?

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মনিরুজ্জামান খান ফারুক কয়েকজনকে চড়থাপ্পড় ও পাইপ দিয়ে মারছেন। তার সঙ্গে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাভিদুর রহমানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন। প্রথমে দুজন এবং পরে আরও দুজনকে আটক করেন তারা। তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনও সদস্যকে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বরিশালের উপপরিচালক তানভীর হোসেন খান বলেন, ‌‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি এভাবে অভিযান চালাতে পারেন না। মঙ্গলবার রাতে বিএনপি নেতার অভিযান চালানোর বিষয়টি আমরা জেনেছি। টিবি হাসপাতালের মাঠটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় সেখানে মাদকসেবীদের উপদ্রব আছে। তবে পুলিশকে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতালের মাঠটি সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। মাঠটির কাছেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয় ও আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি।

আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের ওই অভিযান চালানোর বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। অভিযান চালানোর পর আমরা বিষয়টি শুনেছি। পুলিশ মাঝেমধ্যে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। তবে ওই দিন সেখানে কোনও পুলিশ ছিল না।’

অভিযানের বিষয়ে মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, ‘আমরা সমাজটাকে এভাবে চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যেতে দিতে পারি না। তাই এ অভিযান চালিয়েছি। চারটি ছেলেকে হাতেনাতে ধরে সামান্য মারধর করেছি এবং ওদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছি। আমার এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে এভাবে অভিযানে চালানোর বিষয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশ কি সঠিকভাবে কাজ করে? পুলিশ সঠিকভাবে কাজ করলে মাদকের ছড়াছড়ি কীভাবে হয়? তাই এখন সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে না পারলে আমাদের প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।’

বরিশাল মহানগর পুলিশের কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, ‘এ অভিযানের বিষয়ে আগে বা পরে আমাকে কিংবা পুলিশকে কিছু জানানো হয়নি।’

বরিশাল আইনজীবী সমিতির সদস্য আবু আল রায়হান বলেন, ‘বিএনপি নেতা যা করেছেন, তা পুরোপুরি আইনবহির্ভূত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া কারও অভিযান চালানোর এখতিয়ার নেই।’

বিষয় : বিএনপি মাদক দ্রব্য মারধর

Protidinkhabor.com

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


এবার বিএনপি নেতার নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান, কয়েকজনকে মারধর

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে ছিটকে পড়ার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। আমানতগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে মারধর করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে টিবি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল মাঠে তার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এরপর অভিযানের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

মাদক নির্মূলের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কি কোনও রাজনৈতিক দলের নেতার আছে?

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মনিরুজ্জামান খান ফারুক কয়েকজনকে চড়থাপ্পড় ও পাইপ দিয়ে মারছেন। তার সঙ্গে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাভিদুর রহমানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন। প্রথমে দুজন এবং পরে আরও দুজনকে আটক করেন তারা। তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনও সদস্যকে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বরিশালের উপপরিচালক তানভীর হোসেন খান বলেন, ‌‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি এভাবে অভিযান চালাতে পারেন না। মঙ্গলবার রাতে বিএনপি নেতার অভিযান চালানোর বিষয়টি আমরা জেনেছি। টিবি হাসপাতালের মাঠটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় সেখানে মাদকসেবীদের উপদ্রব আছে। তবে পুলিশকে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতালের মাঠটি সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। মাঠটির কাছেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয় ও আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি।

আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের ওই অভিযান চালানোর বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। অভিযান চালানোর পর আমরা বিষয়টি শুনেছি। পুলিশ মাঝেমধ্যে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। তবে ওই দিন সেখানে কোনও পুলিশ ছিল না।’

অভিযানের বিষয়ে মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, ‘আমরা সমাজটাকে এভাবে চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যেতে দিতে পারি না। তাই এ অভিযান চালিয়েছি। চারটি ছেলেকে হাতেনাতে ধরে সামান্য মারধর করেছি এবং ওদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছি। আমার এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে এভাবে অভিযানে চালানোর বিষয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশ কি সঠিকভাবে কাজ করে? পুলিশ সঠিকভাবে কাজ করলে মাদকের ছড়াছড়ি কীভাবে হয়? তাই এখন সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে না পারলে আমাদের প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।’

বরিশাল মহানগর পুলিশের কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, ‘এ অভিযানের বিষয়ে আগে বা পরে আমাকে কিংবা পুলিশকে কিছু জানানো হয়নি।’

বরিশাল আইনজীবী সমিতির সদস্য আবু আল রায়হান বলেন, ‘বিএনপি নেতা যা করেছেন, তা পুরোপুরি আইনবহির্ভূত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া কারও অভিযান চালানোর এখতিয়ার নেই।’


Protidinkhabor.com

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আলী আজগর হাওলাদার
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আলী আজগর হাওলাদার