কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আরও দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার খবর জানিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী।
জাহাজ দুটি সমুদ্রপথে পাতা মাইনে আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেছে তারা।
এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা অন্তত পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নৌবাহিনী জানায়, সর্বশেষ আগুন লাগা দুটি ট্যাংকার সামুদ্রিক মাইনে আঘাত হেনেছে। তবে জাহাজ দুটির নাম, কোন দেশের মালিকানাধীন কিংবা সেগুলোতে থাকা তেলের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সমুদ্রপথে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা এবং সমন্বয় ছাড়াই নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করাকে এই দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”
ইরানের নৌবাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অননুমোদিত পথে চলাচলের চেষ্টা করার সময় অন্তত পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এসব জাহাজ নির্ধারিত বা অনুমোদিত নৌপথ অনুসরণ না করে প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেছে তেহরান।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই জলপথ। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় একটি অংশও এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়া কিংবা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সর্বশেষ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি, নাবিকদের হতাহত হওয়ার তথ্য কিংবা মাইনের আঘাতে আগুন লাগার দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আল-জাজিরা