
‘হামরা গরিব মাইনষি ঠান্ডাতে হামরা মরি যায়ছি, হামাক কাহো দ্যেখে না। না চাইতে তোমরা দিনেন, তোমার ভালো হইবে।’ প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কম্বল পেয়ে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের টেপা বর্ম্মন (৮০)।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শহরের বড় মাঠে (টাউন ক্লাব মাঠ) টেপা বর্ম্মনসহ ২৫০ অসহায় মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। প্রথম আলোর নীলফামারী বন্ধুসভার সদস্যরা এই বিতরণে সহযোগিতা করেন। আইডিএলসি ফিন্যান্স পিএলসির সৌজন্যে প্রথম আলো ট্রাস্ট এসব কম্বল দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিয়েছে।
প্রায় ১৫ দিন ধরে নীলফামারীতে ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। আজ সূর্যের দেখা মেলায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম। ঝলমলে রোদে দাঁড়িয়ে শীতার্ত মানুষ সারিবদ্ধভাবে কম্বল গ্রহণ করেন।
ইটাখোলা ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া গ্রামের অশীতিপর হেমন্ত রায় বলেন, ‘তিন বছর আগত তোমরা মোক এখান কম্বল দিছিনেন, ওইখান ছিড়ি গেইছে, মোক আর কাও এখান কম্বল দেয় নাই। এখান উড়ি (গায়ে দিয়ে) এনা আরাম হইবে।’ ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কিরণ বালা (৮০) বলেন, ‘কম্বলখান পেয়া মোখ খুশি নাগেছে। এখান উড়ি আইতোত নিন্দির (ঘুমাতে) পারিম।’
দুই দিন ধরে নীলফামারী বন্ধুসভার সদস্যরা এলাকার শীতার্তদের খুঁজে বের করেছেন। এ সময় তাঁরা শীতার্ত মানুষের নামের তালিকা করে কম্বলের স্লিপ প্রদান করেন। তালিকায় বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও শিশুরা ছিল। আজ স্লিপ হাতে জেলা সদরের পলাশবাড়ি, টুপামারী, ইটাখোলা, খোকশাবাড়ি, কুন্দপুকুর ও পৌর এলাকার শীতার্ত মানুষ শহরের বড় মাঠে জড়ো হন।
প্রথম আলোর নীলফামারী বন্ধুসভার সভাপতি রুবি আক্তারের সঞ্চালনায় কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম রব্বানী।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. জুলফিকার আলী, পঞ্চপুকুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেন, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূর আলম, প্রথম আলোর নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি মীর মাহমুদুল হাসান, প্রথম আলো বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি সুধির রায়, সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায়, শীতবস্ত্র বিতরণ কমিটির আহ্বায়ক মীর সাদিক হোসেন প্রমুখ।
শীতার্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসুন
শীতার্ত মানুষের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে অনুদান পাঠানো যাবে।
মন্তব্য করুন