অনলাইন ডেস্ক
২৬ মে ২০২৬, ৯:২১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ৬১ জেলার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষক। দীর্ঘ ও কঠোর নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করে আমরা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সর্বকালের সবচেয়ে স্বচ্ছ ও নির্ভুল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবার প্রায় ৯৩% মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমে পরীক্ষার তারিখ ছিল ২রা জানুয়ারি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্তে পরীক্ষা এক সপ্তাহ্ পিছিয়ে ০৯ জানুয়ারি পুনঃ নির্ধারিত হয় । Bangladesh Army, National Security Intelligence (NSI), Directorate General of Forces Intelligence (DGFI), পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির চেষ্টা করেছিল, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অধিকতর স্বচ্ছতা ও প্রকৃত মেধাবীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে এবার ভাইভায় “ফেইল সিস্টেম” চালু করা হয়েছিল এবং প্রতি পদের বিপরীতে জেলাভেদে ৫-৭ জন প্রার্থীকে রাখা হয়েছিল যেন উপযুক্ত মেধাবীদের বাছাই করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা যায়।

চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করার পর জেলা সিভিল সার্জন কর্তৃক স্বাস্থ্য সনদ প্রাপ্তি এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক সকল ডকুমেন্ট যাচাই-বাচাই সম্পন্ন করা হয়।

অর্থাৎ রাষ্ট্র ইতোমধ্যেই আমাদের যোগ্যতা যাচাই করেছে লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের মাধ্যমে। এখন নতুন করে ট্রেনিংয়ের নামে আবার যোগ্যতার প্রমাণ নিছক প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিভিন্ন প্রথম সারির গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে ও শুনতে পাচ্ছি, ট্রেনিংয়ের নামে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের একটি বড় অংশকে বাদ দেওয়ার পায়তারা চলছে, যা নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ এর চরম লঙ্ঘন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই— চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর কোনো প্রার্থীকে নতুন শর্ত আরোপ করে বাদ দেওয়ার সুযোগ বিধিমালায় নেই। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু অন্যায়ই নয়, হাজারো পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিষ্ঠুর প্রহসনের শামিল।

আরও পড়ুন  বকশীগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দোয়া মাহফিল; ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেছিলেন— শিক্ষকদের দাবি আদায়ে আর রাজপথে নামতে হবে না, শিক্ষকরা ক্লাসরুমে থাকবে। কিন্তু সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “১৪,৩৮৪ জন শিক্ষককে আমরা নিবো, কেউ বাদ যাবে না। তবে ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দেখা হবে তাদের যোগ্যতার ঘাটতি আছে কি না। ট্রেনিংয়ে কেউ ফেল করলে তাকে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করানো হবে না।”

আমরা সম্মানের সঙ্গে বলতে চাই, এই বক্তব্য বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ এর সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। বিধিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে— যোগদানের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। চাকুরিতে যোগদানের পূর্বে প্রশিক্ষণ এবং শর্তসাপেক্ষে যোগদান চাকরির শর্ত হিসেবে বিধিমালা বহির্ভূত।

আমরা মানসম্মত প্রশিক্ষণের বিপক্ষে নই, বরং দক্ষ ও আধুনিক শিক্ষক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণকে স্বাগত জানাই। তবে প্রশিক্ষণ কখনও চাকরিতে যোগদানের যোগ্যতা নির্ধারণের মানদণ্ড হতে পারে না।

এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব Tarique Rahman এর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশীদার হতে এবং দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে।

আমরা সরকারের বিপক্ষে নই; আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু অযৌক্তিক, বিধিমালাবহির্ভূত ও বৈষম্যমূলক কোনো সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেবো না।

আমরা রাজপথে নামতে চাই না। তারপরও যদি আমাদের এমন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষক ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবো।

আমরা চাই, নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ যথাযথ অনুসরণ করে অনতিবিলম্বে আমাদের এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার অবসান ঘটিয়ে আমাদের যোগদান নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ে পদায়ন ও পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদেরকে আরও দক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হোক।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১০

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১১

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৩

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৪

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৫

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৬

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

১৭

নিলামে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৮

ইসির বিচার করার হুঁশিয়ারি দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১৯

স্পিকারের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে জোর

২০