অনলাইন ডেস্ক
১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শিশু হৃদয় হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড

শরীয়তপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশু শিক্ষার্থী হৃদয় খান ওরফে নিবিড়কে (১১) হত্যার দায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় একজন কিশোর আসামিকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন গাজী (১৯) ও পাবনার সিংগা এলাকার সিয়াম হোসেন (২০)। অপরদিকে, খিলগাঁও এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর আসামির বিচার শিশু আদালতে হওয়ায় তাকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই হৃদয় খান নিখোঁজ হয়। সে সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার মনির খানের ছেলে এবং শহরের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিখোঁজের ঘটনায় ওই রাতেই তার মা নিপা আক্তার পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন রাতেই দুর্বৃত্তরা নিপা আক্তারের মোবাইলে কল করে হৃদয়কে অপহরণের কথা জানায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। মুক্তিপণ চাওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাকিল হোসেন গাজী, সিয়াম হোসেন এবং ওই কিশোরকে আটক করে।

আটকদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট জেলা শহরের একটি ইটভাটা থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে আসামিরা স্বীকার করেন হৃদয়কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং হত্যার পরই মুক্তিপণের জন্য ফোন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন  শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য ক্যাটাগরিতে অদম্য নারী পুরষ্কার পেয়েছেন সাংবাদিক শাহিনুর আক্তার

মামলাটি প্রথমে পালং মডেল থানার এক কর্মকর্তা তদন্ত করেন। পরে তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই ২০২৪ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত হৃদয়ের মা নিপা আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ওরা টাকার জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আড়াই বছর ধরে সন্তানের জন্য হাহাকার করছি। একটি রাতও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। একজনকে শিশু দাবি করে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। সেই ছিল মূল পরিকল্পনাকারী। রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন আসামিরা যেন উচ্চ আদালতে গিয়ে কোনোভাবে খালাস না পায় এবং দ্রুত রায় কার্যকর করা হয়।’

এদিকে রায় ঘোষণার পর আসামিদের আদালত কাস্টডিতে নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ দ্রুত আসামিদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কামরুল হাসান বলেন, মামলায় একজনের বিচার শিশু আদালতে হওয়ায় তাকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। অপর দুইজনের বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে হয়েছে এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিল। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদ কোতোয়াল বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমরা রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, এটাকে দুর্বলতা মনে করবেন না

রোববার জামায়াত আমির ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদের বাসায় যাবেন তারেক রহমান

যুব সম্প্রদায়ের কথা শুনব, সবাইকে গুরুত্ব দেব : তারেক রহমান

চাঁদপুর-৪ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি হারুনুর রশিদের

পরাজিত প্রার্থীর বাসায় গেলেন বিজয়ী, শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখ

কর্মস্থলে ফিরতে ফ্রি লঞ্চ সার্ভিস নবনির্বাচিত নুরুল হক নুরের

ধানুশকে ২০ কোটির ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ

পাকিস্তানে মসজিদে হামলায় জাতিসংঘের নিন্দা

হাসনাতের আসনে ভোট বাতিল ও পুনঃভোট চাইলেন ট্রাক প্রতীকের জসিম

জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং: তারেক রহমান

১০

রংপুর-৪ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে সড়ক অবরোধ, দুই ঘণ্টা যানজট

১১

ভালোবাসা দিবসে ওটিটি, ইউটিউব, টেলিভিশনে বর্ণিল আয়োজন

১২

দীর্ঘ ২৯ বছর পর হারানো আসন পুনরুদ্ধার জামায়াতের

১৩

সহিংসতাকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি শামা ওবায়েদের

১৪

রূপগঞ্জে বিএনপি কার্যালয়ে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ

১৫

মাঝ আকাশে ইঞ্জিনে বিস্ফোরণ, প্রাণে বাঁচলেন যাত্রীরা

১৬

বালুর নিচে পুঁতে রাখা হয় যুবকের মরদেহ

১৭

ফরিদপুরে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের সংঘর্ষে আহত ২০, বাড়িঘর ভাঙচুর

১৮

বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ফরিদপুর, আহত ২০

১৯

এই বিজয় কোনো একক দলের নয়, এ বিজয় দেশের জনগণের আজ থেকে আমরা স্বাধীন।

২০