
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা থেকে সরে গিয়ে শক্তি ও জাতীয় স্বার্থনির্ভর নীতির দিকে ঝুঁকছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ।
এই বাস্তবতায় ইউরোপকে আরও দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার হেডেসহাইমে খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মের্জ বলেন, আমরা দেখছি, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র — যেটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রই — ধীরে ধীরে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা থেকে সরে যাচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনকে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারণের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির দিকনির্দেশনা ক্রমেই ‘শক্তি ও স্বার্থনির্ভর রাজনীতির’ দিকে এগোচ্ছে।
জার্মানির এই চ্যান্সেলর সতর্ক করে বলেন, ইউরোপের পক্ষে আর ‘মাথা বালিতে গুঁজে রাখা’ বা কোনও ভূরাজনৈতিক কোণে সরে গিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করা সম্ভব নয়। তার মতে, এমন কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মের্জ বলেন, যদি ওয়াশিংটন নিজেদের পথ নিয়ে অনড় থাকে, তাহলে শুধু সমালোচনা করে কোনও লাভ নেই।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি নিজেদের ছোট করে ফেলি, যদি আড়ালে সরে যাই, তাহলে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের দিকে তাকাবে না। কিন্তু ইউরোপে যদি আমাদের মতো একই ভাষায় কথা বলা জোটসঙ্গী থাকে, তাহলেই তারা আমাদের সম্মান করবে।
এদিকে গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ইউরোপের আটটি মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপের শীর্ষ নেতারা। একইসঙ্গে এই হুমকিকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন তারা। এমন অবস্থায় বিদ্যমান পরিস্থিতি ঘিরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও দ্রুত বাড়ছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতার জেরে ইউরোপের আটটি মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া পণ্যের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। পরে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। কোনও সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
মন্তব্য করুন