অনলাইন ডেস্ক
৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

জুলাই আন্দোলনে নিহত ভাইয়ের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বকশীগঞ্জে আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি কারাগারে
সামরুল হক
জুলাই মাসের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ভাইয়ের ঘটনাকে ব্যবহার করে স্থানীয় ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জামালপুরের বিজ্ঞ সিআর আমলী আদালত, বকশীগঞ্জ–এ দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানি শেষে বিচারক আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
মামলার বিবরণ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আক্তার হোসেন বকশীগঞ্জ পৌরসভার সীমারপাড়া এলাকার মৃত রেজাউল করিমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ) ও ৫০৬ (ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী গোলাম মোহাম্মদ মনু (৫৮) অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আক্তারের ভাই রিপন নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই আক্তার নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর দাবি, ভাইয়ের হত্যার মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে দফায় দফায় প্রায় ৫৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
সাবেক মেয়রকে মামলায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ পৌরসভার প্রথম সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর-এর নামও জুলাই আন্দোলনে নিহত রিপন হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। পুলিশ তাকে ঢাকা উত্তরার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তিনি বর্তমানে জেলহাজতে আছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সাবেক মেয়রকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা, এবং বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে এভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে—যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত সংস্থার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার বাদী হিসেবেও আক্তার হোসেনের নাম রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে তার বা তার আইনজীবীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আইনজীবী মহলের মতে, কোনো ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হলে অভিযোগের সত্যতা আদালতেই প্রমাণিত হতে হয়; তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়।
অতিরিক্ত টাকার দাবির অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৬ নভেম্বর আক্তার বাদীর বাড়িতে গিয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং ডিবি পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া ও মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের আদেশ
শুনানি শেষে আদালত অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে আমলে নিয়ে আক্তার হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
বকশীগঞ্জ সরকারি কে.ইউ কলেজের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আদিল আব্দুল্লাহ বলেন,
“ভাইয়ের মৃত্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আক্তার হোসেন এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছিলেন বলে আমরা শুনেছি। তার গ্রেপ্তারের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।”
(উল্লেখ্য, উল্লিখিত সব অভিযোগ ও পাল্টা দাবিগুলো আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কাউকে আইনগতভাবে দোষী বা নির্দোষ বলা যায় না।)

Facebook Comments Box
আরও পড়ুন  নড়াইলে সিংগা গ্রামে আধিপত্য, দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১০

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১১

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১২

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৪

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৫

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৬

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৭

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

১৮

নিলামে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৯

ইসির বিচার করার হুঁশিয়ারি দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০