অনলাইন ডেস্ক
১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচনকালীন অপরাধ দমনে মাঠে নামছে ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশজুড়ে মাঠে নামছেন ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত এই বিচারকরা আজ থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাবলে নির্বাচনী অপরাধসমূহ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্য পরিচালনা করবেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, ভোটগ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটের দিন এবং পরের দুই দিন অর্থাৎ ৫ দিনব্যাপী এই বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নিয়োগপ্রাপ্ত এই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’-এর অনুচ্ছেদ ৮৯ এ-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচনী অপরাধসমূহ সরাসরি আমলে নেওয়ার এখতিয়ার রাখবেন।

বিশেষ করে ভোটদানে বাধা প্রদান, ভোটকেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন তফসিলি অপরাধের ক্ষেত্রে তাঁরা ‘দ্য কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ১৯০ (১) ধারা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিচার বা ‘সামারি ট্রায়াল’ পরিচালনা করবেন। আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের এই কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে যাতে যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন  বরিশালে পরীক্ষা হলে নারীর কাছে মিলল মোবাইল

প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটদের আজ মঙ্গলবার পূর্বাহ্নেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যোগদান করে তার অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

দায়িত্ব পালনকালে কোনো অপরাধ আমলে নেওয়া হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসি সচিবালয়ের আইন শাখায় প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রতিটি সংসদীয় আসনে এক বা একাধিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন এবং তাঁদের সহায়তার জন্য বেঞ্চ সহকারী বা স্টেনোগ্রাফার সঙ্গে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার বিচারকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যানবাহন যেমন জিপ, মাইক্রোবাস কিংবা স্পিডবোটের সংস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিচারকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ মোতয়েন করতে বলা হয়েছে।

সারা দেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি স্থানে বিচারকদের সুনির্দিষ্ট অধিক্ষেত্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়-১ থেকে শুরু করে বান্দরবান পর্যন্ত প্রতিটি আসনে বিচারকদের এই সরাসরি নজরদারি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে কমিশন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হামিমসহ ঢাবির দুই হল ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি

যে শাস্তি পেলেন দেরি করে অফিসে আসা সেই ৩ ভূমি কর্মকর্তা

লক্ষ্মীপুরে সাহাব উদ্দিন নামে এক কৃষকদল নেতা করলো চুরি

বন্ধ থাকা সরকারি পাটকলগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ : প্রতিমন্ত্রী

সালিশে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল নেতা বহিষ্কার

কূটনীতিক ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ইফতার করবেন প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তান সিরিজে ফিরছেন সাকিব, কী বলছে বাস্তবতা

এবার ইরানিদের পানিতে মারতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

যেভাবে রাশিয়ার ‘ভাড়াটে সেনা’ হয়ে লড়ছেন বাংলাদেশি যুবকরা

স্বামীকে হত্যা করে পালালেন টিকটকার আঁখি

১০

পেছাল ‘টক্সিক’ মুক্তির তারিখ

১১

প্লেব্যাক নিয়ে শ্রেয়ার কড়া বার্তা

১২

ঢাকার যেসব এলাকা আজ ভয়াবহ দূষিত

১৩

ঈদে আসছে জোভান-নীহার ‘গুডলাক’

১৪

ন্যাড়াবাহিনীর প্রধান নিহত

১৫

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল

১৬

ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

১৭

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

১৮

তরুণ-তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

১৯

পুরোনো রাজনীতির বিপরীতে তরুণদের শক্ত চ্যালেঞ্জ

২০