অনলাইন ডেস্ক
২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

১৯৫২ সালে মাতৃভাষা পেলেও নাগরিকদের অধিকার আজও অধরা রয়ে গেছে: জামায়াত আমির

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে মাতৃভাষার অধিকার অর্জিত হলেও দেশের নাগরিকরদের অধিকার আজও অধরা রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। 

 

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থান-এ ভাষা শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ছাত্র ও তরুণরা বুক পেতে লড়াই করেছিলেন এবং শাহাদত বরণ করেছিলেন। আজিমপুর কবরস্থানে দাফনকৃত ভাষা সৈনিকদের স্মরণ করে তারা ফাতেহা পাঠ, সুরা ইখলাস তেলাওয়াত এবং বিশেষ মোনাজাত করেছেন।

১৯৫২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের সকলের জন্যই দোয়া করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠিত কায়েম স্বার্থবাদী সরকারগুলো জনগণের অধিকার গায়ের জোরে চেপে ধরতে চেয়েছে। এর প্রতিবাদেই বারবার আন্দোলন ও বিদ্রোহ হয়েছে। ভাষার অধিকার আমরা পেয়েছি, কিন্তু নাগরিক অধিকার এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

আরও পড়ুন  অসুস্থ তৌসিফ বুলিংয়ের শিকার, আইনি ব্যবস্থা নেবেন গায়ক

এসময় ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ যেমন বঞ্চনার সময় ছিল, তেমনি স্বাধীনতার পরও কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বীররা কখনো হারিয়ে যায় না জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ৫২-র শহীদরা আমাদের শিখিয়ে গেছেন, সংগ্রাম করলে অধিকার ফিরে পাওয়া যায়।

এসময় তিনি জানান, এই সংগ্রাম কোনো বিশেষ শ্রেণীর জন্য নয়; কৃষক, শ্রমিক, মাঝি-মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্যই তাদের রাজনীতি। তরুণদের বাস্তব স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি। একইসঙ্গে শিশুদের আগামী দিনের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না বাংলাদেশে একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র দরকার যেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নির্মূল হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ জীবন পাবে।

শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জীবন দিয়ে হলেও জাতির অধিকার ফিরিয়ে দেব। তার মতে, প্রকৃত ন্যায়বিচার তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন আল্লাহর দ্বীনের ভিত্তিতে ফয়সালা কায়েম হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে কে? আলোচনার শীর্ষে এস এ খোকন

টাইব্রেকারে মিসের মহড়া, ডাচদের বিদায় করল মরক্কো

২৫ লাখ টাকা নিয়ে লিখিতভাবে দাবি ছেড়ে দেওয়ার পর আবার অবৈধ দখলের চেষ্টা! ডেমরার ঐতিহ্যবাহী ওয়াকফ সম্পত্তি..

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

১০

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

১১

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

১২

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১৩

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১৪

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১৫

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৬

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৭

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৮

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৯

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

২০