অনলাইন ডেস্ক
১ মার্চ ২০২৬, ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কীভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল সিআইএ–ইসরায়েল

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অভিযান–সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। হামলার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়, যা হামলার সময়সূচি পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে।

 

সূত্র জানায়, কয়েক মাস ধরে ইরান–এর সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান ও চলাফেরা নজরদারিতে রেখেছিল সিআইএ। সংস্থাটি জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরান–এর কেন্দ্রস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হবে। সেখানে খামেনিসহ জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক নেতৃত্ব উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

এই তথ্য পাওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার সময় পরিবর্তন করে। মূলত রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও বৈঠকের খবর পাওয়ার পর শনিবার সকালে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইসরায়েলের ধারণা ছিল, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন— মোহাম্মদ পাকপুর, প্রধান কমান্ডার, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি); আজিজ নাসিরজাদেহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী; আলী শামখানি, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান; সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, অ্যারোস্পেস ফোর্স কমান্ডার; মোহাম্মদ শিরাজি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী।

রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, হামলায় আলী শামখানি ও মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন  নির্বাচনের আগে নেপালে দুই জনপ্রিয় নেতার জোট গঠন, চাপে পুরনো দলগুলো

অভিযান শুরু হয় ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে। যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর, তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে কমপ্লেক্সে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র।

খামেনি একটি ভবনে এবং জাতীয় নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পাশের আরেকটি ভবনে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা দাবি করেন, এই হামলায় তারা ‘কৌশলগত চমক’ দিতে সক্ষম হয়েছে।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন এবং চাইলে তাঁকে হত্যা করা সম্ভব।

সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সে সময় ব্যবহৃত গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তথ্যই সাম্প্রতিক অভিযানে কাজে লাগানো হয়েছে। গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের সময় খামেনি ও আইআরজিসির যোগাযোগ ও চলাফেরা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।

খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানের নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে—কে হবেন তার উত্তরসূরি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল আসতে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘ভোটের হিসাব নয়, এলাকার বাসিন্দা হিসেবে সবাই সমান সেবা পাবেন’

১২ লাখ টাকার ‘হোয়াইট ডায়মন্ড’ এখন শরীয়তপুরে

অবসর ভেঙে ফেরার প্রস্তাব, মুখ খুললেন মুশফিক

২৬ সালের শুরুতেই ‘বৈষম্যহীন’ নবম পে-স্কেল কার্যকরের দাবি

স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মসজিদের কক্ষ থেকে ইমামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ পর এবার ‘খ্যাপাটে নেতানিয়াহু’

ছাত্রদল নেতাকে হত্যা, পুলিশ হেফাজতে নারী সমন্বয়ক

মারা গেলে আমার লাশটা নড়াইলে নিও না, বাবাকে অভিমানী মাশরাফির অনুরোধ

শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপির ভূমিকা বিশ্লেষণের দাবি রাখে: নাহিদ ইসলাম

১০

পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতক ফোরকান

১১

৫ খুনের পর পদ্মায় ঝাঁপ, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

১২

‘বলেছে ১ কোটি টাকা দিলে কেস থেকে নাম উঠিয়ে দেবে’

১৩

পদ্মা সেতু থেকে লাফিয়ে পড়া ব্যক্তি ফোরকান কি না ধোঁয়াশায় পুলিশ

১৪

৩ বছর ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার গেন্ডারিয়া থানায়

১৫

বিশ্বজুড়ে নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস আতঙ্ক

১৬

ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয়

১৭

জাহাজ আটকের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ ও বর্বর’ পদক্ষেপের জন্য জাতিসংঘে অভিযোগ ইরানের

১৮

ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অন্তর্ভুক্ত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

১৯

শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

২০