
দীর্ঘ ১১ বছর নতুন বেতন কাঠামো না পাওয়ায় বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা; এমন দাবি তুলে ‘বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল’ দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ ও আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (১৫ মে) বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- মো. ছালজার রহমান এবং লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মো. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ১১-২০ ফোরামের সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।
লিখিত বক্তব্যে মো. লুৎফর রহমান বলেন, গত ১১ বছর ধরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ সময়ে সম্মিলিত মুদ্রাস্ফীতি ১০৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালে কর্মচারীদের সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার পে-কমিশন গঠন করে আশার সঞ্চার করলেও এখনো গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১:৪ অনুপাতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা কার্যকর করা।
এছাড়া ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। ব্লক পোস্টসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি অথবা প্রতি পাঁচ বছর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান এবং টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দেওয়ার দাবিও তুলে ধরা হয়।
দাবির তালিকায় আরও রয়েছে— সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু করা, বিদ্যমান গ্রাচ্যুইটি বা আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ এবং পেনশন গ্রাচ্যুইটির ক্ষেত্রে ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ।
এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত কর্মচারীদের চাকরিকাল গণনার ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিলের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বিদ্যমান ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ এবং সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর মতো ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানানো হয়।
সংগঠনটি আরও দাবি জানায়, সচিবালয়ের মতো সব সরকারি, আধাসরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে বেতন ও পদ-বৈষম্য দূর করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এম এ হান্নান, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের সমন্বয়ক ও চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া, বাংলাদেশ ১৭-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী সমিতির সমন্বয়ক ও সভাপতি মো. রফিকুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন