অনলাইন ডেস্ক
৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে বড় উদ্যোগ, ব্যয় সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পদ্মা নদীতে বিশাল এক ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণীয় নোটিশের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এ তথ্য জানান।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে এ সংক্রান্ত নোটিশটি উত্থাপন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে।

এছাড়া সমীক্ষা অনুযায়ী আরও ৫টি জেলা পরোক্ষভাবে এর সুবিধা লাভ করবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এই ব্যারেজ হবে অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

বাস্তবায়নকাল ২০২৬ থেকে ২০৩৩ প্রকল্পের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের জন্য ২০০৪ সালে প্রথম সমীক্ষা শুরু হয়েছিল, যা শেষ হয় ২০১৩ সালে। সেই সমীক্ষায় ব্যারেজ নির্মাণের জোরালো সুপারিশ করা হয়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। ২০২৬ সালে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  চকরিয়ায় পর্যটক এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপে রেলকর্মী রক্তাক্ত, ট্রেন থামিয়ে নেওয়া হলো হাসপাতালে

প্রকল্পের সুফলের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ হেক্টর জমিতে উন্নত সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্প থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

বিশাল এই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্পটি চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারের এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের নদীবহুল অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে এবং মরুকরণ প্রক্রিয়া রোধ করে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে অধিবেশনে আশা প্রকাশ করা হয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১০

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১১

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১২

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৪

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৫

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৬

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৭

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

১৮

নিলামে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৯

ইসির বিচার করার হুঁশিয়ারি দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০