
ঘুম আমাদের শরীর ও মনের জন্য কতটা জরুরি, সেটা আমরা সবাই জানি। ভালোভাবে না ঘুমাতে পারলে শরীরে ক্লান্তি আসে, মন খারাপ লাগে, এমনকি অনেক সময় বড় ধরনের শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয়। কিন্তু আপনি কি খেয়াল করেছেন—প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে আপনার ঘুম ভেঙে যায়?
প্রথমে এটা তেমন কিছু মনে না হলেও, নিয়মিত এমনটা হলে এটি হতে পারে কিছু শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণ। চলুন, জেনে নিই কোন কোন কারণে রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
আপনি যদি ট্রেনলাইন, ব্যস্ত রাস্তা বা শব্দপূর্ণ এলাকায় থাকেন, তাহলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কোনও শব্দে আপনার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। এটি একবার-দুবার হলে সমস্যা নেই, তবে নিয়মিত হলে এটি আপনার ঘুমের গুণমান নষ্ট করে দেয়, যা শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে।
রাতের বেলায় ঘরের তাপমাত্রা যদি হঠাৎ কমে বা বাড়ে—যেমন হিটার বন্ধ হয়ে গেলে বা এসি ঠিকঠাক কাজ না করলে—তাহলেও ঘুম ভেঙে যেতে পারে। শীত বা গরমের কারণে আপনি আরাম বোধ করেন না, ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই সাড়া দিয়ে আপনাকে জাগিয়ে তোলে।

রাতে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ ইত্যাদি থেকে আসা আলো বা নোটিফিকেশনের সাউন্ড ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে LED ডিসপ্লের নীল আলো আমাদের মস্তিষ্ককে জাগিয়ে তোলে। তাই ঘুমের আগে এসব ডিভাইস এড়িয়ে চলা ভালো।
যারা মানসিক চাপে থাকেন, তাদের ঘুমে নানা সমস্যা হয়। উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা হতাশা থাকলে রাতের যে কোনও সময় ঘুম ভেঙে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যাও তৈরি করতে পারে।
স্লিপ অ্যাপনিয়া: এই সমস্যায় ঘুমের সময় শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। অনেক সময় শ্বাস বন্ধও হয়ে যায়। ফলে আপনি আচমকা জেগে উঠতে পারেন। সারারাতেই এমন একাধিকবার হতে পারে।
স্লিপ প্যারালাইসিস: এতে ঘুম ভাঙার পর শরীর নাড়াতে পারেন না। অনেক সময় ভয়ংকর স্বপ্ন বা হ্যালুসিনেশনও হয়। এটি ভয়ানক মনে হলেও চিকিৎসা করলে ঠিক হয়ে যেতে পারে।
কী করবেন
– প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ওঠার চেষ্টা করুন
– ঘুমানোর আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার কমিয়ে দিন
– ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখুন
– মানসিক চাপ থাকলে কাউন্সেলিং বা মেডিটেশনের চেষ্টা করুন
নিয়মিত এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
ঘুমের সমস্যা অবহেলা করার মতো নয়। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম ভাঙা যদি অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কারণ, এটি হতে পারে আপনার শরীরের ভেতরের কোনো বড় সমস্যার ইঙ্গিত।
সূত্র : ভেরি ওয়েল হেল্থ
মন্তব্য করুন