অনলাইন ডেস্ক
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৪:০০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রক্তিম কালচে রঙে ধরা দিল চাঁদ

সারাবিশ্বের কোটি মানুষের সাথে বাংলাদেশিরাও উপভোগ করলো মহাজাগতিক এক নিদর্শন। একদিকে পূর্ণিমার ভরাট চাঁদ, তার গায়েই লাগলো পূর্ণ গ্রাস। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের পরপরই একপর্যায়ে গোটা চাঁদ হয়ে উঠলো রক্তিম। ‘ব্লাড মুন’ নামের এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে শিশু-কিশোর-ছেলে-বুড়ো অনেকেই ছাদে চন্দ্রাহত হয়ে থাকলেন গভীর রাত পর্যন্ত।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে বাংলার আকাশে ধরা দেয় চাঁদের এক অন্য রূপ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আকাশে দেখা ভিন্ন এক দৃশ্য। কতশত গল্প, কবিতা; উপমা আর আখ্যা। কারও কাছে প্রিয়তমা কারও বা চাঁদ মামা— সব যেন একসাথে অবলোকন করার উপলক্ষ এসে হাজির হলো।

বাহারি রূপকের মতো চাদের রূপেও আছে বৈচিত্র আর বৈশিষ্ট্য। পূর্ণিমার ভরাট চাঁদ দেখে বিমোহিত হয় না এমন মানুষ পাওয়া দুস্কর। অবাক চোখে আকাশের পানে চেয়ে চন্দ্রাহত হতে ভালবাসে মানুষ।

মূলত, রোববার রাত ছিল চন্দ্রপ্রেমীদের জন্য বিশেষ। চাঁদের পূর্ণ গ্রহণ; সেই সাথে ব্লাড মুন বা রক্তিম চাঁদ। একসাথে একাধিক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে তাই অনেকেই ছিলেন অপেক্ষায়। ঘটা করে টেলিস্কোপ, বাইনোকুলার নিয়ে হাজির হন ছাদে।

রোববার রাত ১১ টার খানিক পর টের পাওয়া গেল চাঁদের একটি পাশ যেন কালচে হয়ে আসছে। পূর্ণ গ্রহণ লেগেছে ভরাট চাঁদে। দেখতে দেখতে চাঁদ হারিয়ে যেতে থাকলো গ্রাসের কবলে। ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই গোটা চাঁদটাই ঢেকে গেল পৃথিবীর ছায়ায়। পুরো চাঁদ হারিয়ে যেতে না যেতেই ধীরে ধীরে ঢেকে যাওয়া শরীরে একটা লালচে আভা ফুটে উঠতে শুরু করলো। আসলে রক্তিম চাঁদের আলো নেই খুব একটা। তবুও গভীর রাত পর্যন্ত চলে চন্দ্রদর্শন।

আরও পড়ুন  যে কোনো সময় বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু বিপজ্জনক মধ্যপ্রাচ্য,

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৯টা ২৭ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয়। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয় রাত সাড়ে ১১টায়। রাত ১২টা ১১ মিনিটে শুরু হয় কেন্দ্রীয় গ্রহণ। পূর্ণ গ্রহণ থেকে চাঁদের নির্গমন শুরু হয় রাত ১২টা ৫৩ মিনিটে। গ্রহণ থেকে চাঁদ সম্পূর্ণরূপে বেরিয়ে স্বাভাবিক রূপে ফেরে রাত ২টা ৫৬ মিনিটে। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণটি টানা ৮২ মিনিট স্থায়ী হয়। ২০২২ সালের পর এটিই দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।

এর আগে,  আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, চন্দ্রগ্রহণটি পুর্ণাঙ্গভাবে দেখা যাবে এমন স্থান হলো পূর্বে ইন্দোনেশিয়ার হিলা দ্বীপ হতে শুরু করে পশ্চিমে কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দর পর্যন্ত। এই দু’দিকের কিছুটা পূর্ব-পশ্চিমেও আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। তবে উত্তর আমেরিকা, ক্যারিবীয়ান অঞ্চল ও দক্ষিণ আমেরিকার ৯০ ভাগ অঞ্চল থেকে এটি দেখা যাবে না।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ২৮ দফা ইশতেহার

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকলেও আসন পায়নি যে ২ দল

তারেক রহমানের নির্দেশে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

খামেনির উপদেষ্টাসহ ইরানি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ

নিখোঁজের ২১ দিন পর মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

বিক্ষোভে সন্ত্রাসীদের সহায়তা দিচ্ছে ইসরায়েল, অভিযোগ ইরানের

ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ, নোবেল পদক উপহার দিলেন মাচাদো

ইউরোপীয়দের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

ইরানে হামলা পেছাতে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন নেতানিয়াহু

১১ দলীয় জোট ৪৭ আসনে প্রার্থী দেয়নি যে কারণে

১০

কোন ভিসায় স্থগিতাদেশ, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

১১

কেন ১৪৭০৭ কোটির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মেসি?

১২

ভোটকেন্দ্র সংস্কারে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ, তদারকিতে কমিটি

১৩

প্রার্থিতা পাননি মাহমুদা মিতু, যা বললেন নাহিদ ইসলাম

১৪

প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি, যা জানাল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

১৫

খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করেই আগামীর রাষ্ট্র বিনির্মাণ করবে বিএনপি : রবিন

১৬

ঢাকায় শিক্ষিকার বাসা থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

১৭

‘স্বাধীন ইরান’ অবিলম্বে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে: পাহলভি

১৮

উত্তরায় আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে তিনজনের মৃত্যু

১৯

১০৯ বছরের পৌষসংক্রান্তির মেলা

২০