মূলধন ঘাটতি ও সরকারি সহায়তা: একীভূত ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা মূলধন। এর মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরবরাহ করবে সরকার, আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল ও আমানত রূপান্তরের মাধ্যমে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। সরকার চাইছে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে একীভূতকরণের কার্যক্রম শেষ করতে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ভিত্তিক কর্মকৌশল চূড়ান্ত করে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহম্মদের নেতৃত্বে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটিতে অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। নতুন ব্যাংকের সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একীভূত ব্যাংকটি লাভজনক হওয়ার পর সরকারের শেয়ার ধাপে ধাপে বেসরকারি খাতে ছাড়বে। বড় অঙ্কের আমানতকারীদের শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেওয়া হবে, তবে ছোট আমানতকারীরা চাইলে তাদের টাকা তুলতে পারবেন। একীভূত হওয়ার তালিকায় রয়েছে- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) ও এক্সিম ব্যাংক।
এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দিয়েছে। তবে এক্সিম ব্যাংক ও এসআইবিএল ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আরও সময় চাইছে। এ বিষয়ে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন জানিয়েছেন, দুই বছর সময় পেলে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। ইতোমধ্যে খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যক্রম শুরু করেছি। অন্যদিকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) উদ্যোক্তা শেয়ারধারীরা ব্যাংকটিকে অন্য কোনো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এসআইবিএলের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্ব উদ্যোক্তা শেয়ারধারীদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে।
|
১৭ মার্চ, ২০২৬
