
(জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী)
নরসিংদী: ৩০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) – সাবেক শিল্পমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা এবং নরসিংদী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের দাফন আজ তাঁর গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে পিতা-মাতার কবরের পাশে সম্পন্ন হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তাঁর পৈতৃক নিবাস মনোহরদী উপজেলার শুকুর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এই জানাজায় মানুষের ঢল নামে। নামাজ শেষে ব্রাহ্মনহাটা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজার নামাজের ইমামতি করেন বাঘিবাবাড়ি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শওকত আলী।
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে রাজধানী ঢাকার আজাদ মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কারাগারে থাকাকালীন জীবনাবসান
গত রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর, একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে রাজধানীর গুলশান থেকে র্যাবের হাতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর পর থেকেই তিনি কারাবন্দি ছিলেন। সম্প্রতি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮, ২০১৪, ২০১৯ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি ২০১৯ সালে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পট-পরিবর্তনের পর তিনি যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৫০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী এই নেতা ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি বৃহত্তর ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলর ট্রাইব্যুনালের সভাপতিও ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী নাদিরা মাহমুদ, ছেলে মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী এবং দুই কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মন্তব্য করুন