অনলাইন ডেস্ক
৩ নভেম্বর ২০২৫, ৭:২৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ভয়াবহ খরায় বিপর্যস্ত তেহরান’ দুই সপ্তাহে শুকিয়ে যেতে পারে পানির উৎস

ভয়াবহ খরায় বিপর্যস্ত ইরানের রাজধানী তেহরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দুই সপ্তাহের মধ্যে শহরের পানীয় জলের প্রধান উৎস শুকিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় সময় রোববার (২ নভেম্বর) সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএকে তেহরান পানি কোম্পানির পরিচালক বেহজাদ পারসা জানান, তেহরানের পাঁচটি পানির উৎসের একটি আমির কাবির ড্যামে বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ (১৪ মিলিয়ন) ঘনমিটার পানি আছে—যা এর মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশ, তিনি বলেন, এই পরিমাণ পানি সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ শহরকে সরবরাহ করা সম্ভব।

দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখোমুখি। তেহরান প্রদেশে বৃষ্টিপাতের মাত্রা ছিল ‘প্রায় শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম’—গত মাসে জানিয়েছিলেন এক স্থানীয় কর্মকর্তা।

দশ মিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যার এই শহরটি আলবোরজ পর্বতমালার দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত, যেখানে নদীগুলো তেহরানসহ আশপাশের জলাধারগুলোকে পানি সরবরাহ করে।

পারসা জানান, এক বছর আগে আমির কাবির ড্যামে পানির পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৬০ লাখ (৮৬ মিলিয়ন) ঘনমিটার, কিন্তু চলতি মৌসুমে তেহরান অঞ্চলে বৃষ্টিপাত তেমন হয়নি বলা জেতে পারে। তবে অন্যান্য জলাধারের অবস্থা সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

আরও পড়ুন  অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের জন্য বন্ধ হলো সামাজিক মাধ্যম, কেন এমন উদ্যোগ

ইরানি গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, তেহরানের মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ (৩ মিলিয়ন) ঘনমিটার পানি ব্যবহার করে। পানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ হিসেবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেশ কয়েকটি এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। চলতি গ্রীষ্মে পানি ও বিদ্যুতের ঘনঘন বিপর্যয় ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।

জুলাই ও আগস্টে তীব্র তাপদাহে তেহরানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরিয়ে যায় এবং দেশের কিছু এলাকায় ৫০ ডিগ্রিতে পৌঁছে—ফলে পানি সাশ্রয়ের জন্য দুটি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সে সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করেছিলেন, ‘পানিসংকট আজ যে মাত্রায় আলোচিত হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি গুরুতর।’

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের শুষ্ক প্রদেশগুলোতে পানি সংকট আরও মারাত্মক; এর জন্য দায়ী পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুর্ব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব।

এদিকে, প্রতিবেশী ইরাকও ১৯৯৩ সালের পর সবচেয়ে শুষ্ক বছর পার করছে। কম বৃষ্টিপাত এবং উজানে পানিবন্দী নীতির কারণে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর পানিস্তর ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, যা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু: ইতিহাসের আয়নায় আমাদের পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রতীক -মিজানুর হক খান

যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস বৃষ্টি নিয়ে

ঢাকা ছাড়লেন যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের উদ্দেশে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না নাগরিকদের দুর্বল রেখে : প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে নগরবাসী ঈদের আগেই

ভাড়ার চার্ট টানিয়ে রাখতে হবে ঈদের সময় কাউন্টার গুলোতে: ডিএমপি কমিশনার

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই: বিএনপি সরকার

অ্যাসোসিয়েশনের গণমাধ্যম ভিডিও এডিটরস আহ্বায়ক রাফিদ, সদস্য সচিব সুজন

বৃষ্টি হবে কি না আজ ঢাকায় , জানাল অধিদপ্তর

যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস বৃষ্টি নিয়ে

১০

১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায়

১১

আজ বিক্রি হচ্ছে ২৪ মার্চের টিকিট: ঈদে ফিরতি ট্রেনযাত্রা

১২

কম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ স্বল্প মেয়াদে

১৩

আজও বাতিল ২৪ ফ্লাইট: মধ্যপ্রাচ্য সংকট

১৪

সহনীয়’ ঢাকার বাতাস আজ ‘

১৫

সম্মানি কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন ইমাম-পুরোহিতদের: প্রধানমন্ত্রী

১৬

টোকিওতে জ্বালানি মন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি ফোরামে বাংলাদেশ

১৭

সরকারি নথিতে অস্তিত্ব মিললেও বাস্তবে উধাও: কেরানীগঞ্জের শিং নদ

১৮

পথচারী নারীর মৃত্যু মধুবাগে নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে

১৯

কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে শৈলকুপায় ভিজিএফের দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০

২০