অনলাইন ডেস্ক
৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মাদুরোকে আটকের পর ইরানকে ঘিরে বাড়ছে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানের পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে এই অভিযানের প্রভাব শুধু লাতিন আমেরিকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে। একজন ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানকে অন্য একটি দেশ সামরিকভাবে আটক করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল।

প্রতিবেদন আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী (ডেল্টা ফোরসেস) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত এক অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। পরে তাকে বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়া এবং আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন বলছে, এটি কোনো ‘রাজনৈতিক অভ্যুত্থান’ নয়; বরং একটি ‘আইন প্রয়োগমূলক’ অভিযান। তবে, ভেনেজুয়েলা ও তার মিত্র দেশগুলো একে স্পষ্টভাবে ‘অপহরণ ও সার্বভৌমত্ব’ লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  গোপালগঞ্জের দুটি আসনে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরো সরকারের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ভেনেজুয়েলা ছিল লাতিন আমেরিকায় ইরানের অন্যতম কৌশলগত মিত্র। ফলে মাদুরোকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে তেহরান সরাসরি নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রভাবের ওপর আঘাত হিসেবেই দেখছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী আন্তর্জাতিক নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার প্রতি অনাস্থা বাড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে।

এই অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পপন্থীরা একে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কঠোর মাদকবিরোধী’ নীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটনসহ কয়েকটি শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভও হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত দেখিয়ে দিল—প্রয়োজনে তারা কূটনৈতিক পথ বাদ দিয়ে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এতে বিশ্ব রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং আশঙ্কা বাড়ছে ভবিষ্যতে অন্য শক্তিধর দেশগুলোকেও একই পথ অনুসরণে উৎসাহিত করতে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী বিএনপির শহিদ পরিবারের সদস্য ছাত্রদলের শারমিন সুলতানা রুমা

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

কুষ্টিয়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, দরবারে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

জুন-জুলাইয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, শীর্ষ পদপ্রত্যাশী দুই ডজন নেতা

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

হাম টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ শুরু, ৪ সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা পাবে ১২ লাখের বেশি শিশু

জামায়াতকে’ পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস

এটা শাহবাগ নয়, এটা পার্লামেন্ট- হাসনাতকে স্পিকার

১০

অভিযুক্তের সঙ্গে দলের কোন সম্পর্ক নেই, আইনের আওতায় আনার আশ্বাস

১১

টাঙ্গাইলে মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেফতার ৬

১২

লালমনিরহাটের সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি গ্রেফতার

১৩

মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ: রুমিন ফারহানা

১৪

বিসিবিতে বাপের দোয়া-মায়ের দোয়া কমিটি করা হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৫

আবু সাঈদ হত্যা মামলা ট্রাইব্যুনালে আনা হলো আসামিদের, টেলিভিশনে রায় সরাসরি সম্প্রচার

১৬

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে বনদস্যুর গুলিতে জেলে গুলিবিদ্ধ

১৭

আদালতে জামিনে মুক্তি পেলেন ভোলার সেই জামায়াত কর্মী সাওদা সুমি

১৮

সন্ধ্যার পর বাসা-বাড়িতে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া: বিএনপি

১৯

গণভোটের রায় অস্বীকারের মধ্য দিয়ে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে

২০