অনলাইন ডেস্ক
১২ জানুয়ারী ২০২৬, ৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বছরের শুরুতে মাধ্যমিক ও ইবতেদায়িতে বই সংকট

নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার উৎসব বাংলাদেশে এক ধরনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সেই চেনা ছবিটি এবারও পূর্ণতা পেল না। বছরের শুরু পেরিয়ে গেলেও মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনও সব পাঠ্যবই পায়নি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সময়মতো বই সরবরাহে আবারও ব্যর্থ হলো।

যদিও প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই বিতরণ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে, তবে মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার বই ছাপা ও বিতরণে বড় ধরনের বিলম্ব দেখা দিয়েছে। এনসিটিবির ভাষ্য অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়া দেরিতে শুরু হওয়ায় মুদ্রণ কাজ পিছিয়ে পড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বই বিতরণে। এর ফলে শিক্ষাবর্ষ শুরুর সপ্তাহগুলোতেও শিক্ষার্থীদের বইবিহীন অবস্থায় ক্লাসে বসতে হচ্ছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) এনসিটিবি জানায়, এখনো দুই কোটি ৯২ লাখ ১৮ হাজার ৬০৯টি পাঠ্যবই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। শতাংশের হিসাবে মোট পাঠ্যবইয়ের ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ এখনও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি।

এনসিটিবি অবশ্য আশ্বাস দিচ্ছে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই বই বিতরণ সম্পন্ন হবে। তবে বাস্তবতা হলো- এর আগেও একাধিকবার নির্ধারিত সময়ের কথা বলেও সংস্থাটি তা রক্ষা করতে পারেনি, যা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদা চাইলে মনে করবেন, সে আমার লোক না : সারজিস

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান বলেন, ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরের (ইবতেদায়িসহ) ১৮ কোটি ৫০ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬৫টি পাঠ্যবই সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ শেষ হবে।

এর আগে, গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণের অগ্রগতি জানিয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটিবি জানায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট পাঠ্যবইয়ের গড়ে ৮৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এনসিটিবি সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর www.nctb.gov.bd
ঠিকানায় সব স্তরের পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ প্রকাশ করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা অন্তত সাময়িকভাবে পাঠ্যসূচির বাইরে না পড়ে।

তবে ডিজিটাল বই থাকলেও বাস্তব শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতা ভিন্ন। দেশের অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত, ফলে অনলাইন বই সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়। বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে- পাঠ্যবই বিতরণের এই দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ থেকে এনসিটিবি আদৌ কবে বেরোতে পারবে?

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১০

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১১

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১২

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৪

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৫

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৬

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৭

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

১৮

নিলামে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৯

ইসির বিচার করার হুঁশিয়ারি দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০