অনলাইন ডেস্ক
২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৫:০০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কেউ মিথ্যা বলছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

আপনি কি কখনো মনে করেছেন, কেউ একজন আপনার সঙ্গে ঠিক সত্য বলছে না? কিন্তু নিশ্চিত নন, তাই সরাসরি প্রশ্ন করতেও দ্বিধা লাগছে। হতে পারে কোনো বন্ধু হালকা একটা মিথ্যা বলছে, কিংবা অফিসের কোনো সহকর্মী নিজের সুবিধার জন্য কথা ঘুরিয়ে বলছে।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ছোট-বড় মিথ্যার মুখোমুখি হওয়াটা খুবই সাধারণ। তাই কখন কেউ মিথ্যা বলছে, তা একটু বুঝে নেওয়া দরকার। সরাসরি কাউকে মিথ্যাবাদী বললে অনেক সময় কথা বন্ধ হয়ে যায় বা পরিস্থিতি খারাপ হয়ে ওঠে। তাই কিছু কৌশলে কথা বলাই ভালো। যেমন, এমনভাবে প্রশ্ন করা, যাতে মানুষটি নিজেই অস্বস্তি বোধ করে।

আবার একই ধরনের কোনো ঘটনা তুলে ধরে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, সে হলে কী করত। কখনো সাধারণভাবে বলা যায়, ‘এ ধরনের ব্যাপারগুলো সত্যিই অদ্ভুত না?’ আবার অনেক সময় শুধু ‘সত্যি?’ বললেই বোঝা যায়, মানুষটি কতটা আত্মবিশ্বাসী।

মিথ্যা বলার সময় মানুষের সাধারণ আচরণ
সব মানুষ এক রকম নয়। তবু মিথ্যা বলার সময় অনেকের মধ্যে কিছু মিল পাওয়া যায়। একটি লক্ষণ দেখেই কাউকে দোষী বলা ঠিক নয়। তবে কয়েকটি লক্ষণ একসঙ্গে দেখা গেলে সতর্ক হওয়া ভালো।

– প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বাভাবিক দেরি করে

– আপনার কথায় অতিরিক্ত রাগ বা উত্তেজনা দেখায়

– সরাসরি উত্তর না দিয়ে ঘুরিয়ে নিজের মতামত বলতে থাকে

আরও পড়ুন  ‘সর্বোপরি, আল্লাহ সহায়’

– নিজের কথা জোরালো করতে আপনার কথাই আবার ব্যবহার করে

– গা এলিয়ে বসে থাকে বা শরীরী ভঙ্গি অস্বস্তিকর হয়

– চোখে চোখ রেখে কথা বলা এড়িয়ে চলে

– কথা বলার সময় শরীর বা মুখ ঘুরিয়ে নেয়

– আপনাকে বোঝাতে খুব কম ইশারা বা শারীরিক ভঙ্গি ব্যবহার করে

– গল্পটা ধীরে ধীরে বলে, যেন নীরবতা এড়াতে চায়

– আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেয়, কিন্তু নিজে কিছু জানতে চায় না

– বাক্যের শুরুতে বলে, ‘সত্যি বলতে’ বা ‘খোলাখুলি বলছি’

– উত্তরগুলো খুব সাজানো ও মুখস্থ করা মনে হয়

– সময় নষ্ট করতে প্রশ্ন আবার করতে বলে বা প্রশ্নের জবাবে প্রশ্ন করে

সব সময় চোখে চোখ না তাকানো বা নার্ভাস হওয়া মানেই যে কেউ মিথ্যা বলছে, তা নয়। কেউ কেউ স্বভাবগতভাবেই লাজুক বা অস্বস্তিতে ভোগে। তাই আচরণ, কথা এবং পরিস্থিতি সব মিলিয়ে বিচার করা জরুরি।

মিথ্যা চেনা কোনো জাদুর মতো বিষয় নয়। তবে একটু মনোযোগী হলে অনেক সময় সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য ধরা যায়। ব্যক্তিগত জীবন হোক বা কর্মক্ষেত্র, সচেতন থাকা আমাদেরই উপকারে আসে। তাড়াহুড়ো করে কাউকে দোষী না ভেবে ধৈর্য নিয়ে পর্যবেক্ষণ করাই সবচেয়ে ভালো পথ। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং প্রতারণার ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামালপুরে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

জাতীয় সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

রাজধানীর গুলশানে সিসাবারে অভিযান, সেবন সামগ্রী জব্দ

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী বিএনপির শহিদ পরিবারের সদস্য ছাত্রদলের শারমিন সুলতানা রুমা

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

কুষ্টিয়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, দরবারে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

১০

জুন-জুলাইয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, শীর্ষ পদপ্রত্যাশী দুই ডজন নেতা

১১

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

১২

হাম টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ শুরু, ৪ সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা পাবে ১২ লাখের বেশি শিশু

১৩

জামায়াতকে’ পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগী দলের নাম রেখে জামুকা বিল পাস

১৪

এটা শাহবাগ নয়, এটা পার্লামেন্ট- হাসনাতকে স্পিকার

১৫

অভিযুক্তের সঙ্গে দলের কোন সম্পর্ক নেই, আইনের আওতায় আনার আশ্বাস

১৬

টাঙ্গাইলে মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেফতার ৬

১৭

লালমনিরহাটের সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি গ্রেফতার

১৮

মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ: রুমিন ফারহানা

১৯

বিসিবিতে বাপের দোয়া-মায়ের দোয়া কমিটি করা হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০