
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের হিংগানগর গ্রামের অনিক নামের এক যুবককে পরিকল্পিত ভাবে মামলায় ফাঁসিয়ে অর্থ আত্মসा ও জমি দখলের অপচেষ্টা।
ভুক্তভোগী অনিক বলেন, সুখন নামের এক ব্যক্তি ভুক্তভোগীর দাদার নামে থাকা সম্পত্তি বেদখল হতে উদ্ধারের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে টাকা পয়সা খরচ করান। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে ১২.৫০ শতাংশের একটি প্লট ভাগিয়ে নেন। সুখনের কাছে পূর্বেরও জমির বণ্টনকৃত ৪,২০,০০০/- টাকা পাওয়া যায়। সুখন জমি রেজিস্ট্রির আগে ভুক্তভোগীর পরিবারকে বলে, জায়গাটি সে দখল করে বিক্রি করে টাকা দেবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটে তার পুরোটাই ভিন্ন। জমি রেজিস্ট্রির কিছুদিন পরে সেই জায়গাটি সরকারি অধিগ্রহনের মধ্যে পড়ে যায়। অধিগ্রহণকৃত প্রস্তাবিত জমির এলএ কেস নং ২৭/২০২২-২৩ (ল্যাপ-১৩)। এখন সুখন কাউকে টাকা পয়সা দিতে নারাজ। এই নিয়ে সুখনের সাথে ভুক্তভোগীর সাথে কিছুটা বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এদিকে ভুক্তভোগীর নামে থাকা ৪.৭০ শতাংশের দুইটি প্লটও সুখন সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে ক্রয় করিতে চায়। এতে ভুক্তভোগী অস্বীকৃতি জানায় এবং ভুক্তভোগী নিজ মালিকানা জায়গায় দ্বিতীয় একটি ঘর নির্মাণ করেন। এর পরেই পুলিশ তাকে এক মাস ছয় দিন আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত 07/08/2013 ইং সালে থানায় নিয়ে যায়। আর তার নির্মাণ করা দ্বিতীয় ঘরটি দেলদোয়ার উপজেলার এসিল্যান্ড ভেঙ্গে দেয়। আর পরের দিন ০৮/০৮/২০১৩ ইং তারিখ মামলা রেকর্ড করে তাকে কোর্টে প্রেরণ করে। পরে ভুক্তভোগী ২৫ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পায়।
এদিকে দেলদুয়ার থানায় বাদীর আনীত অভিযোগ
পেনাল
কোড (১৪৩/৩৪১/৩২৪/৩০৭/৩৭৯) ধারা মিথ্যা প্রতীয়মান হওয়ার অত্র মামলার দায় হতে অব্যাহতি দানের প্রার্থনা জানাইয়া দেলদোয়ার থানার ফাইনাল চার্জশীট কোর্টে প্রেরণ করে। এরপর ভুক্তভোগী কয়েক মাস হাজিরা দিয়ে ঢাকায় যায়। এরপরই সুখনরা ভুক্তভোগীর জায়গাটি দখলের চেষ্টা করে। জায়গার বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন দিলে সুখনবা জায়গাটি দখলে ব্যর্থ হয়। কিন্তু মালিকানা জায়গার উপর দিয়ে জোরপূর্বক এলজিইডিৰ রাস্তা নির্মাণ করে। পরে ভুক্তভোগী সুখন আর
কৃষ্ণকান্তর সব কু-কর্মের তথ্য ফ্ল্যাশ করতে চাইলে সুখন এইটা করতে নিষেধ করে। পরে ভুক্তভোগী না মানলে সুখন আর কৃষ্ণকান্ত বাদীকে দিয়ে ভুক্তভোগীর অনুপস্থিতিতে নিজেরাই একটি আপোষনামার কাগজে তৈরি করে যেখানে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরটি জাল। তার পরিবারের কারো কাছ থেকে স্বাক্ষরটি জোয় পূর্বক নেয়া হয়েছে এবং মামলাটি মিটানোর কথা বলে আবারও ১০,০০০/-টাকা নিয়েছে। এর কয়েকমাস পর মামলার বাদী আপোষের পরেও ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে কোর্টে আবেদন করেন। এর আগে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য কোর্টে আবেদন দিলে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি। ডিবি কয়েকজন মিথ্যা স্বাক্ষীর জবানবন্দী রেকর্ড করে। মামলার ১ম স্বাক্ষী শিবনাথ দাস ঘটনার সময়কালে তার একটি ভয়েস রেকর্ডিংয়ে শোনা যায় তাকে থানায় নিয়ে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে শিবনাথ দাস তার ১৬১ ধারার জবানবন্ধীতে বলেন আসামীরা তাদেরকে এলোপাথারীভাবে মারধর করে। পরে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। আবো একজন স্বাক্ষী নিখিল চন্দ্র মন্ডল তার ১ম জবানবন্ধীতে বলেন ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং মারামারি হয়েছে মর্মে স্বাক্ষর প্রদান করেন। একই ব্যক্তি নিখিল চন্দ্র মন্ডল ডিবির কড়া তদন্তে নিজের বয়ান পাল্টে ১৬১ ধারায় ভিন্ন জবানবন্দী দেন। তিনি বলেন, আসামী অনিক মারামারি করে সঞ্চয়ের প্যান্টের পকেট হইতে ২০,০০০/- টাকা ছিনিয়ে নেয়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। ভুক্তভোগী বলেন, এইসব মিথ্যা স্বাক্ষীর জবানবন্দী রেকর্ড করে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে।
প্রশাসন তার অবস্থান জানার পরেও তাকে গ্রেফতার করেনি। কারণ এই মামলায় ভুক্তভোগীর যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকায় সুখন আর মামলার বাদী শরৎ চায় অন্য কোন জায়গায় নিয়ে গ্রেফতার দেখিয়ে নতুন কোন মামলায় ফাসানোর ধান্ধা। কারণ হিসেবে ভুক্তভোগী বলেন, তাকে বিভিন্ন সময় হোয়াটসএ্যাপে চাকুরিব ম্যাসেন পাঠানো হয়। আবার ঐ একই নাম্বার থেকে বিভিন্ন মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ভুক্তভোগী বলেন যেকোন সময় আমাকে বড় ধরনের মামলায় ফাঁসানো হতে পারে। এ বিষয়ে অনিক কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং অপৰাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।
মন্তব্য করুন