অনলাইন ডেস্ক
৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১:২৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সিসমোফোবিয়া কী, ভূমিকম্প না হলেও কম্পন ভয় কেন?

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের কারণে অনেকেই এমন অভিজ্ঞতা করছেন—হঠাৎ মনে হচ্ছে আশপাশের সবকিছু কাঁপছে বা পায়ের নিচে দুলুনি অনুভূত হচ্ছে। কিন্তু আশপাশে কেউ আতঙ্কিত নয়, পরবর্তীতে বোঝা যায়, ভূমিকম্প হয়নি।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে সিসমোফোবিয়া বা ভূমিকম্প ভীতি বলা হয়। এটি একটি ক্লিনিক্যাল ফোবিয়া, যেখানে মানুষ কম্পন শেষ হলেও অযৌক্তিক এবং অতিরিক্ত ভয়ে আক্রান্ত থাকে।

বাংলাদেশে গত ২১ নভেম্বর পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্পের পর বিশ দিনের মধ্যে অন্তত ৬টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুটি ভূমিকম্প হয়েছে, যার মধ্যে রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে মাত্রা ছিল ৫ দশমিক নয়।

ঢাকার কারওয়ান বাজারের একটি বহুতল ভবনের ১২তলায় অফিস করা তাসলিম তৌহিদ জানান, নভেম্বরের ভূমিকম্পের পরও মাঝে মাঝে মনে হয় যেন পায়ের নিচে দুলুনি চলছে। রামপুরার বাসিন্দা প্রিয়াংকা শিকদারও বলেন, একা থাকলে এই আতঙ্ক আরও বেশি অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) বা মানসিক ট্রমার প্রকাশ। সামান্য শব্দ, চেয়ারের নড়াচড়া বা দূরের ভারি ট্রাকের আওয়াজও বুক ধড়ফড় করাতে পারে এবং মনে হয় সবকিছু ভেঙে পড়তে চলেছে।

কেন হয় সিসমোফোবিয়া?

আরও পড়ুন  হ্যাক করে দেওয়া পোস্টে যদি কোন মা বোন কষ্ট পেয়ে থাকেন তাদের কাছে ক্ষমা চাই

ভূমিকম্পের তীব্র অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কের ভয়ের কেন্দ্র অ্যামিগডালাকে অতিসক্রিয় করে। এর ফলে সামান্য ট্রিগারেও শরীর বিপদের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ তানভীর রহমান বলেন, ভূমিকম্পের ট্রমা মস্তিষ্কে স্থায়ী বিপদ সংকেত তৈরি করে। ভবন ভেঙে পড়ার ভাবনাও মৃত্যুর ভয় জাগিয়ে দেয়। পুনরাবৃত্ত ট্রমার কারণে মানুষের মনে স্থায়ী আতঙ্ক বা সিসমোফোবিয়া তৈরি হয়।

শারীরিক কারণও থাকতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, কানের ভিতরের এন্ডোলিম্ফ তরল অস্থির হলে ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা কম্পনের অনুভূতি দীর্ঘায়িত করে। মিডিয়ার গ্রাফিকাল কভারেজও মানুষের মধ্যে ভীতির মাত্রা বৃদ্ধি করে।

প্রতিকার

সিসমোফোবিয়া সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য। মনোবিজ্ঞানীরা কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT) এবং এক্সপোজার থেরাপি ব্যবহার করে অযৌক্তিক ভয় ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন।

সেফটি কিট, ড্রিল এবং প্রস্তুতিমূলক জ্ঞান মানুষকে সতর্ক ও আত্মবিশ্বাসী করে। জাপানের মতো ভূমিকম্প-প্রবণ দেশে অভ্যস্ত মানুষদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ট্রমা কম দেখা যায়। বাংলাদেশের জন্যও প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা ভয় কমাতে সহায়ক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসমোফোবিয়া বা ভূমিকম্প ভীতি মানসিক ও শারীরিক প্রভাব ফেললেও সচেতনতা, চিকিৎসা এবং অভ্যস্ততার মাধ্যমে এর ভয় অনেকটা কমানো সম্ভব।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১০

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১১

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১২

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৪

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৫

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৬

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৭

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

১৮

নিলামে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৯

ইসির বিচার করার হুঁশিয়ারি দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০