অনলাইন ডেস্ক
২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পচা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার, তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা বিধবা আয়েশা

প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামী আমির হোসেন লেদুকে হারান আয়েশা বেগম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে চরম দুর্দশায় পড়ে যায় তার পরিবার। বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ে তিন সন্তান—মো. সজিব, মো. সৌরভ ও মো. সবুজ। এরপর থেকে সন্তানদের নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন পার করছেন আয়েশা বেগম।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে গিয়ে দেখা যায় এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য। অভাব-অনটনের কারণে কখনো শুধু পানি খেয়ে, আবার কখনো পচা ভাত খেয়েই সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে আয়েশা বেগম ও তার সন্তানদের।

নামাজ শেষে পচা পান্তাভাত খেতে বসেন আয়েশা বেগম। অন্যদিকে বিদ্যুৎবিহীন ঘরে কুপি জ্বালিয়ে ছোট্ট চকিতে নীরবে বসে থাকে তার তিন সন্তান। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতা তাদের জীবনকে করে তুলেছে অসহায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত আমির হোসেন পেশায় ছিলেন পিকআপ চালক। অন্যের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবজি পরিবহন করে সংসার চালাতেন তিনি। ভয়াবহ বন্যায় এলাকার সব সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেলে তার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে জীবিকার তাগিদে গাছ টানার কাজ শুরু করেন।

২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অন্যান্য দিনের মতো একটি পিকআপ ভাড়া নিয়ে গাছ উত্তোলনের কাজ করতে যান আমির হোসেন। কাজের সময় অসাবধানতাবশত একটি বড় গাছ তার ওপর ভেঙে পড়ে। গাছের চাপায় তার মাথা থেঁতলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই আয়েশা বেগম ও তার সন্তানদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। একদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক, আরেক দিকে উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

আরও পড়ুন  মেক্সিকোতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১০

বিধবা আয়েশা বেগম বলেন, দুই বছর আগে স্বামী হারাইছি। তিন সন্তান নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে থাকি। বৃষ্টিতে ভিজি, রোদে শুকাই। আগে বাবা আমার খোঁজ নিতেন, কিন্তু প্রায় এক বছর আগে সেও মারা গেছেন। এখন আমাদের দেখার কেউ নাই। সন্তানরা ভালো খাবার চায়, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নাই। অনেক সময় পচা ভাত দিয়েই সেহরি-ইফতার করি।

নিহতের ভাই মজিবুল হক বলেন, আমার ভাই মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী তিন ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছে। আমাদের নিজের অবস্থাও ভালো না, তাই নিয়মিত সহযোগিতা করতে পারি না। বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে পরিবারটির উপকার হতো।

স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমির হোসেন খুব মিশুক ও হাসিখুশি মানুষ ছিল। মৃত্যুর সময় তার পকেটে এক টাকাও ছিল না। এলাকাবাসী টাকা তুলে তার কাফনের কাপড় কিনে দাফনের ব্যবস্থা করেছে। এখন তার স্ত্রী-সন্তানরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই নেই। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যেহেতু পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে খাবারের কষ্টে আছে তাই আপাতত খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেব। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো এবং আপনাদের বিষয়টি অবহিত করবো।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১০

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১১

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১২

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৪

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৫

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৬

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৭

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

১৮

নিলামে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৯

ইসির বিচার করার হুঁশিয়ারি দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০