অনলাইন ডেস্ক
১৩ মার্চ ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অর্থ পাওয়ার চেয়ে পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে বেশি: বিদেশি ঋণ

উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিদেশি ঋণ নেওয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। গত দেড় দশকে এই প্রবণতা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ সময় অসংখ্য ছোট-বড় অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদেশি ঋণ। ২০০৯ থেকে ২০২৪— এই ১৫ বছর ধার করার প্রবণতা বাড়ে প্রায় চার গুণ। সেসব প্রকল্পের অনেক কাজ শেষ না হলেও এখন ঘনিয়ে আসছে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সবশেষ প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ঋণ ও অনুদান এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার। একই সময়ে কিস্তি দিতে হয়েছে ২৬৭ কোটি ডলারের বেশি। এর মধ্যে সুদ প্রায় ৮৯ কোটি ডলার। তার মানে দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ এখন বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে খরচ হচ্ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে রিটার্ন আসেনি। দেশ এগিয়েছে, অনেক প্রকল্প আমরা করেছি। কিন্তু রাজস্ব আহরণ বাড়ছে না। তার মানে ঋণ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের আর বাড়েনি। সুতরাং যে ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছে, সেটার মধ্যে কোনো গলদ আছে কি না?

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ২০২৬-২৭ সালে আমরা যত বৈদেশিক সহায়তা পাবো, তারচেয়ে বেশি চলে যাবে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে। দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় ব্যাংক থেকে ঋণ রয়েছে এবং ট্রেজারি, বন্ড যেগুলো ছাড়া হয়েছে সেটার কারণে অনেকগুলো দায় তৈরি হয়েছে সরকারের ওপরে, সেগুলো শোধ করতে হবে।

আরও পড়ুন  প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম ৩,২৩৬টাকা বাড়ল

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন সহযোগী কিংবা দেশের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো চুক্তি হয়নি। ফলে গতবছরের তুলনায় ঋণের প্রতিশ্রুতি কমেছে ৮ কোটি ডলার। ঋণের প্রতিশ্রুতি না দেওয়া দেশের তালিকায় আছে ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপান। বহুজাতিক সংস্থা হিসেবে একই প্রবণতা দেখাচ্ছে এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি)।

তবে, আগের চুক্তি অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি অর্থছাড় করেছে রাশিয়া। সংস্থা হিসেবে এগিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি। এরপরই আছে চীন, জাপান ও ভারত।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সংশোধিত বাজেট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরবর্তী বাজেটও গুরুত্বপূর্ণ। তখন বুঝা যাবে, সরকারের কতটুকু আর্থিক সক্ষমতা আছে। কারণ কিছু খরচ করতেই হবে, ঋণের পরিষেবা তার মধ্যে একটা।

ড. মাহফুজ কবীর বলেছেন, সরকারের দিক থেকে নির্দেশনা দিতে হবে যে, পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন আমরা যেন কর পরিশোধ করি। কর পরিশোধ করার জন্য যদি কোনো নীতি পরিবর্তন করতে হয়, ব্যবসায়ীরা যেন স্বস্তি পায় সেটাও করতে হবে, একইসঙ্গে করের আওতা বাড়াতে হবে। গ্রামে-গঞ্জে এখন অনেক ব্যবসা।

উল্লেখ, গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে সাত বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে বাংলাদেশ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে কে? আলোচনার শীর্ষে এস এ খোকন

টাইব্রেকারে মিসের মহড়া, ডাচদের বিদায় করল মরক্কো

২৫ লাখ টাকা নিয়ে লিখিতভাবে দাবি ছেড়ে দেওয়ার পর আবার অবৈধ দখলের চেষ্টা! ডেমরার ঐতিহ্যবাহী ওয়াকফ সম্পত্তি..

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

১০

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

১১

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

১২

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১৩

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১৪

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১৫

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৬

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৭

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৮

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৯

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

২০