অনলাইন ডেস্ক
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৭:০৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নীরব ঘাতক ক্রনিক কিডনি ডিজিজের আগেই জেনে নিন লক্ষণ

কিডনি শরীরে নিঃশব্দে কাজ করে চলা দুটি অঙ্গ। প্রতিদিন অসংখ্য বর্জ্য পদার্থ ও টক্সিন ছেঁকে শরীরকে সুস্থ রাখে এই ছোট্ট ‘ফিল্টার’। কিন্তু কিডনি যখন ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে, শরীরের ভেতর জমতে শুরু করে বিষাক্ত উপাদান। তখনই দেখা দেয় দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন নীরব ঘাতক, কারণ প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণত কোনো উপসর্গই টের পাওয়া যায় না।

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ ও লক্ষণ: ক্রনিক কিডনি ডিজিজে কিডনি ধীরে ধীরে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে ফেলার কাজ কমতে থাকে, ফলে শরীরে জমে যায় বিষাক্ত উপাদান। কিডনি কেবল বর্জ্য ছাঁকাই করে না, বরং হরমোন উৎপাদন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তকণিকা তৈরি এবং হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করে। এসব প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে শরীরে শুরু হয় নানা জটিলতা।

প্রাথমিক অবস্থায় তেমন কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তবে রোগ অগ্রসর হলে যেসব  লক্ষণ দেখা দেয়—
ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন
ক্লান্তি ও দুর্বলতা
ক্ষুধামন্দা
হাত-পা ও চোখে ফোলা
প্রস্রাব ফেনাযুক্ত বা বুদবুদ হওয়া
চুলকানি, শুষ্ক ত্বক
মনোযোগে সমস্যা, ঘুমে ব্যাঘাত
বমি ভাব, পেশি টান, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রধান দুই কারণ হলো ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। এছাড়া—
গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস
পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (জেনেটিক সমস্যা)
প্রস্রাবের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া (পাথর, প্রস্টেট বা টিউমার)
দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন
পুনরাবৃত্ত কিডনি সংক্রমণ
অ্যানিমিয়া, হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, গাউট, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি, স্নায়ুর ক্ষতি, অতিরিক্ত পটাশিয়াম বা ফসফরাস জমে যাওয়া, এমনকি শরীরে পানি জমে শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত হতে পারে।

কিডনি রোগের স্থায়ী চিকিৎসা নেই, তবে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে কিডনিকে অনেকদিন সক্রিয় রাখা সম্ভব। যেমন—
নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ
ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
কিডনি-বান্ধব খাদ্যাভ্যাস
ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার
ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টাইব্রেকারে মিসের মহড়া, ডাচদের বিদায় করল মরক্কো

২৫ লাখ টাকা নিয়ে লিখিতভাবে দাবি ছেড়ে দেওয়ার পর আবার অবৈধ দখলের চেষ্টা! ডেমরার ঐতিহ্যবাহী ওয়াকফ সম্পত্তি..

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

১০

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

১১

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১২

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১৩

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১৪

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৫

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৬

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৭

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৮

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৯

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

২০