
১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটে যোগ দেওয়াকে ব্যর্থতা হিসেবে স্বীকার করে নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারার দায় নিজের কাঁধেই তুলে নেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মঞ্জু বলেন, একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মধ্যেই আমাদের ঢুকে যেতে হয়েছে। এ জন্য আমি নাগরিকদের নয়, নিজেদেরই দায়ী করছি। আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই।
তিনি বলেন, নির্বাচনী রাজনীতির বাস্তবতা ছোট দলগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন। নির্বাচন এমন এক জোয়ার, যেখানে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব এবং সতীত্ব বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলাম নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে দাঁড়াতে, নির্বাচিত হই বা না হই অন্তত আমাদের একটি কণ্ঠ থাকুক। কিন্তু সেই জায়গায় আমরা দাঁড়াতে পারিনি।
জোটে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে মঞ্জু বলেন, বড় রাজনৈতিক জোটে না গেলে ছোট দলগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সিদ্ধান্তে অনেকে কষ্ট পেয়েছেন। দায় যদি ভাগ করতে হয়, তাহলে ৬০ শতাংশ দায় আমরা নিজেরাই নিচ্ছি। সাধারণ জনগণকে আমি দোষারোপ করব না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের কাছে ক্ষমা গ্রহণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সমস্বরে না ধ্বনি ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় মঞ্জু বলেন, কেউ যখন ক্ষমা চায়, তখন ক্ষমা করা উচিত। ক্ষমা না করা এখন একটি নেতিবাচক সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে।
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একটি ছোট দল হিসেবে আমাদের সেই সামর্থ্য ছিল না। ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া, ভোট পাহারা দেওয়া, পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এককভাবে করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান, বিদ্রূপ, বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। মানুষ ঠাট্টা করে বলে, সবাই মিলেও কি ১০০ ভোট পাবে? আমাদের আদৌ দল গঠন বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা আছে কি না, সে প্রশ্ন তোলে। একদিকে প্রত্যাশা, অন্যদিকে অনবরত বিদ্রূপ— এই চাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কঠিন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাসনিম জারার উদাহরণ টেনে মঞ্জু বলেন, সবার ক্ষেত্রে এমন সুযোগ থাকে না। তার একটি আলাদা পটভূমি এবং শক্তিশালী মিডিয়া সমর্থন ছিল। তারপরও তিনি এক শতাংশ সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেননি। যাদের সে ধরনের সুবিধা নেই, তারা চাইলেও একা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, নতুন রাজনীতিকে সবাই সমর্থন করতে চায়, কিন্তু বাস্তবে আর্থিক সক্ষমতা, সংগঠন এবং পৃষ্ঠপোষকতার জায়গায় কেউ পাশে দাঁড়াতে চায় না। রাজনীতির একটি মৌলিক বাস্তবতা হলো অর্থনৈতিক সক্ষমতা, যা নতুন দলগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে এবি পার্টি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়। এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যুক্ত হয়। এতে জোটের শরিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টি। মজিবুর রহমান মঞ্জু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ফেনী ১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং ইতোমধ্যে এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন।
মন্তব্য করুন