অনলাইন ডেস্ক
১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যে কারণে একক নির্বাচনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে যাচ্ছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি)। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে আইএবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৮ আসনে প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।’

জোটে না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ‘ইসলামী আদর্শের আলোকে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আসন্ন নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ওয়ানবক্স পলিসি নির্মাণ করেছিলেন পীর সাহেব চরমোনাই। তার এই ডাকে অনেকে সুর মিলিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, এক পর্যায়ে এসে কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ইসলামপন্থি শক্তির ওয়ানবক্স পলিসির ধারাকে ভিন্ন ধারায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এজন্য আমরা মর্মাহত।’

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, গতকাল একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে আসন বণ্টন হয়েছে। সেখানে আমাদের দীর্ঘদিনের পথ চলা, ৫ আগস্ট পরবর্তী সারা দেশে আমরা ইসলামপন্থি শক্তি একসঙ্গে করার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করেছিলাম। আমরা দেখেছি শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের যে লক্ষ্য ছিল, সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই শঙ্কা থেকে আমরা চিন্তা করলাম, আমাদের ইসলামের পক্ষের একটি বাক্সকে আমাদের হেফাজত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সেই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একজন সম্মানিত নারী, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, জামায়াতের আমির শরিয়া প্রতিষ্ঠা, শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না। এই ওয়াদা তিনি করেছেন। এজন্য আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। এই বিষয়টা যখন আমরা জানতে পারলাম তখন আমরা স্পষ্ট হয়ে গেলাম, আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে চলছি সেই লক্ষ্য অর্জিত হবে না। কারণ, আজ যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মতো একটা পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এখন যারা প্রধান শক্তি তারাই যদি ইসলামের সমান আদর্শ থেকে ভিন্ন দিকে চলে যায়, যদি ইসলামী আইনের প্রতি তাদের আস্থা না থাকে… তাহলে আমরা যে কর্মী-সমর্থক সারা দেশে ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি, এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।’

আরও পড়ুন  বিএনপি-এনসিপির প্রার্থী ব্যবসায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জামায়াতের

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এখানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি, তাই আমরা আমাদের আমাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হতে পারব না। নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারব না।’

এর আগে, সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামী আন্দোলনের এক কেন্দ্রীয় নেতা কালবেলাকে জানিয়েছেন, তারা চূড়ান্তভাবে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটে থাকছেন না।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেই উদ্দেশ্যে এক হয়েছিলাম, বাকি ১০ দল সে কথা রাখেনি। বিশেষ করে ওয়ান বক্স ভোটের নীতি ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাব হলেও একটি বিশেষ দল একক কর্তৃত্ব দেখাচ্ছে। তাই আমরা আমাদের মতো চলতে চাই।’

তার আগে, ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা না থাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিনভর নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে এদিন দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের জরুরি বৈঠক হয়। এতে যোগ দেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নেতারা জানিয়েছিলেন, রাতের সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রতিনিধি থাকতে পারেন। কিন্তু, তারা না আসায় সে গুঞ্জন আরও শক্তিশালী হয়। তাই সবার চোখ ছিল দলটির আজকের সংবাদ সম্মেলনের দিকে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১০

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১১

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৩

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৪

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৫

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৬

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

১৭

নিলামে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৮

ইসির বিচার করার হুঁশিয়ারি দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১৯

স্পিকারের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে জোর

২০