
সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ: দেওয়ানগঞ্জে উত্তেজনা, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মারধরের দাবি
সামরুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। দেওয়ানগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক দৈনিক ইনকিলাব–এর প্রতিনিধি শামছুল হুদা রতনকে মারধরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চিকাজানি ইউনিয়নের মণ্ডল বাজার এলাকায়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
নির্বাচনের পর উত্তেজনা:
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিজয়ী হন। নির্বাচনের পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–র নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ সামনে আসে।
এমন প্রেক্ষাপটে ঘটনাগুলোর সত্যতা যাচাই ও তথ্য সংগ্রহে মাঠে নামেন সাংবাদিক শামছুল হুদা রতন।
হামলার বর্ণনা:
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, মণ্ডল বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই তাঁর ওপর চড়াও হন দেওয়ানগঞ্জ পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহম্মেদ। একপর্যায়ে তাঁর নেতৃত্বে কয়েকজন সহযোগী মিলে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন।
শামছুল হুদা রতন বলেন,
“দেওয়ানগঞ্জ পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহম্মেদের নেতৃত্বে জামায়াত নেতা-কর্মীদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানোর খবর পাই। সেই তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ফারুক আহম্মেদ ও তাঁর লোকজন আমার ওপর হামলা করে।”
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য:
অভিযুক্ত যুবদল নেতা ফারুক আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমি সৎ লোক। একনিষ্ঠভাবে রাজনীতি করে যাচ্ছি।”
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে।
পুলিশের অবস্থান:
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ জানান,
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া:
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার খবর সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এ হামলা হতে পারে।
সাংবাদিক সমাজের দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা
মন্তব্য করুন