
বকশীগঞ্জে বাস মালিক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়াকে ঘিরে উত্তেজনা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সামরুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায় এবং তা ফেরত দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ সওদাগর বিপ্লবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র’ দাবি করে প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বকশীগঞ্জ উপজেলা বাস মালিক সমিতি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বকশীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব। এ সময় সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পরিবহন মালিক, শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ গ্রামে ফেরেন। বকশীগঞ্জেও সেই সময় যাত্রীচাপ বেড়ে যায়। ভোটগ্রহণ শেষে কর্মস্থলে ফেরার সময় কিছু অসাধু বাস ব্যবসায়ী নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন যাত্রী সরাসরি বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ সওদাগর বিপ্লবের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও চালকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শেষে অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা যাত্রীদের ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে যাত্রীদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ পদক্ষেপে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও একটি প্রভাবশালী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন বিপ্লব সওদাগর।
‘দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙতেই অপপ্রচার:
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছিল। তিনি দাবি করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সহ-সভাপতি এবং তার ছোট ভাই, যিনি উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি, এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন,
“আমি মালিক সমিতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ওই কুচক্রী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পরিষ্কার অবস্থান
সংবাদ সম্মেলনে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত অবস্থানও তুলে ধরেন বিপ্লব সওদাগর। তিনি বলেন, তার বাবা মরহুম আব্দুর রশিদ ভুলু সওদাগর বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি নিজে বর্তমানে উপজেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েছেন।
“যে ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং রাজনৈতিক মামলার আসামি, তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বা ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হাস্যকর। এটি শুধুই চরিত্রহননের অপচেষ্টা,”— বলেন তিনি।
চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
আব্দুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব বলেন,
“আমি যতদিন বাস মালিক সমিতির দায়িত্বে আছি, ততদিন বকশীগঞ্জে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট বাণিজ্য কিংবা যাত্রী হয়রানি বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজন হলে প্রশাসনের সহযোগিতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি দাবি করেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নেতৃবৃন্দের সংহতি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ হামিদুল্লাহ সওদাগরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও এ অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, সৎ উদ্যোগকে নিরুৎসাহিত করতে অপপ্রচার চালানো হলে ভবিষ্যতে কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস পাবে না।
তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে ঘোষণা দেন, যাত্রীস্বার্থবিরোধী যে কোনো অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবেন এবং পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবেন।
মন্তব্য করুন